ত্রিপল-কাটমানি কাণ্ডে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার ধুলিয়ানের তৃনমূল কাউন্সিলর জিয়াউর
রিচা দত্ত, মুর্শিদাবাদ: বুধবার মধ্যরাতে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের অভিযান, উদ্ধার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান।
সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ। আবাস যোজনার নামে সাধারণ মানুষের থেকে কাটমানি আদায়। অভিযোগের পাহাড় জমতেই অবশেষে পুলিশের জালে ধুলিয়ান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান।
বুধবার মধ্যরাতে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দেয় কাউন্সিলরের শ্বশুরবাড়িতে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে সরকারি ত্রাণের একাধিক ত্রিপল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার কারবার চালাচ্ছিলেন ওই কাউন্সিলর। এই নিয়ে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিলেন জিয়াউর।
রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে "চিরুনি তল্লাশি" শুরু হয়েছে তারই অংশ হিসেবে এই গ্রেফতার বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকেও জিয়াউর রহমানের কেরিয়ার বেশ চর্চিত। ২০২২ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি ধুলিয়ান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হন। কিন্তু জয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তারপর থেকেই ওয়ার্ডে তার দাপট বাড়ে বলে অভিযোগ।
ধৃতকে বৃহস্পতিবার জঙ্গিপুর আদালতে তোলা হয়। যদিও দলীয়ভাবে এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, "অনেকদিন ধরেই শুনছিলাম আবাসের টাকা চাইছে। গরিব মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারত না। এবার পুলিশ ধরেছে, ভালো হয়েছে।"
প্রশাসনের কড়া বার্তা, দুর্নীতির সাথে যারাই যুক্ত থাকুক কাউকে রেয়াত করা হবে না। জিয়াউর রহমানের গ্রেফতারের পর সামশেরগঞ্জ-ধুলিয়ান এলাকায় আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধির নামও পুলিশের নজরে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

