বিকশিত সৌন্দর্য
পরম পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী প্রেমেশানন্দজী মহারাজ ছিলেন শ্রীশ্রীমায়ের মন্ত্রশিষ্য এবং স্নেহধন্য। মহারাজজীর পত্রাবলী থেকে আজ কিছু সংকলন করা হচ্ছে। তিনি বলছেন, শরীর, প্রাণ, মন ও বুদ্ধির সমভাবে প্রকাশই প্রকৃত শিক্ষা । এককথায় এটাই মানুষের আত্মবিকাশ। যার এরূপ শিক্ষা লাভের সুযোগ হয়েছে অর্থাৎ যে ব্যক্তি স্বাস্থ্যের অধিকারী, যে যথার্থই প্রণবান, মননশীল ও বুদ্ধিমান তাকেই আমরা ঠিক ঠিক শিক্ষিত বা সভ্য বলব। এইরূপ শিক্ষিত ব্যক্তিরই সুখ-দুঃখের অনুভূতি এবং সৌন্দর্যবোধ প্রবল হয়। এইরূপ অনুভূতিশীল ও সূক্ষ্মবোধসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা যে সমাজে যত বেশি সেই সমাজই তত বেশি সভ্য সমাজ। আমরা সাধারণত ডিগ্রিধারী, বাগ্মী, বাইরেটা চাকচিক্য সম্পন্ন মানুষকে শিক্ষিত ভাবি এবং এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা নিরাশ হই। কারণ এদের অনেকের কাছ থেকেই আশানুরূপ আচার- আচরণ, বিচার-বিবেক পাই না। স্বামী প্রেমেশানন্দজী বলছেন, নিজে পরিশ্রম করে সৌন্দর্য সৃষ্টির অভ্যাস না করলে মুখস্ত করা কথায় সৌন্দর্যবোধ বিকশিত হয় না। আমাদের দেশে এটির প্রয়োজন খুব জরুরী। জীবের ভিতর চৈতন্যরূপে ভগবানের শক্তি আছে। কোন কোন কাজে সেই শক্তির বিকাশ হয়, আবার কোন কোন কাজে তা প্রসুপ্ত হয়। ওই চৈতন্য শক্তির বিকাশে জীবের সুখ ও ওই চৈতন্য শক্তির হ্রাসে জীবের দুঃখ হয়ে থাকে। সুখপ্রদ কর্মকে পুণ্য এবং দুঃখপ্রদ কর্মকে পাপ বলে। তাই নিজের জীবনটি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে যেন আমাদের কৃতকর্ম নিজেকে দুঃখী না করে সুখের পথে নিয়ে যায়। এইভাবে জীবন যাপন করলে নিজেকে সুখী করা যায় এবং অন্যদেরও সুখের সন্ধান দেওয়া যায়। আমরা জানিনা যে এক আত্মাই সকল দেহে থেকে সুখ-দুঃখ ভোগ করছেন। তাই সর্বজীবের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত এই সমষ্টি আত্মা বা পরমাত্মার মহিমা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের যত্নশীল হতে হবে এবং আত্মসাম্যবাদে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

