বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে ‘ক্লিনচিট’ পেলেন মনমোহন সিংহ

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬
কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে ‘ক্লিনচিট’ পেলেন মনমোহন সিংহ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: “সমকালীন সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদের থেকে ইতিহাস আমার প্রতি অনেক সহৃদয় হবে” (History will be kinder to me than the contemporary media, or for that matter, the opposition)— প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে ডঃ মনমোহন সিংহের (Manmohan Singh) করা সেই দূরদর্শী ভবিষ্যদ্বাণীই যেন আজ অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। বহুচর্চিত কয়লা খনি বণ্টন দুর্নীতি বা ‘কোলগেট’ কেলেঙ্কারির (Coal Scam) মামলা থেকে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে সম্পূর্ণ ‘ক্লিনচিট’ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁর প্রয়াণের প্রায় দেড় বছর পর, আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত ফৌজদারি প্রক্রিয়া পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। 

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই ঐতিহাসিক রায় দেয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) জমা দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট বা মামলা বন্ধের আবেদনকে খারিজ করে বিশেষ আদালতের (Trial Court) পক্ষ থেকে মনমোহন সিংহকে সমন পাঠানোর কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট ট্রায়াল কোর্টের সেই বিতর্কিত নির্দেশকে সম্পূর্ণ খারিজ করে সিবিআইয়ের ক্লিনচিটকেই মান্যতা দিয়েছে। 
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ইউপিএ (UPA) জমানায় ওড়িশার ‘তালাবিরা-২’ (Talabira-II) কয়লা খনিটি বেআইনি ও অস্বচ্ছভাবে শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লার কোম্পানি ‘হিন্ডালকো’কে বরাদ্দ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাতেই ছিল। এই ঘটনার জেরে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দিল্লির একটি বিশেষ সিবিআই আদালত মনমোহন সিংহ, কুমার মঙ্গলম বিড়লা এবং তৎকালীন কয়লা সচিব পিসি পারখ সহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার সমন পাঠায়। 
নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫ সালের এপ্রিলেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মনমোহন সিংহ। তাঁর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেছিলেন যে তদন্তকারী সংস্থা কোনো অনিয়ম খুঁজে না পাওয়া সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই সমন জারি করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত সেসময় সমনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করলেও মামলাটি দীর্ঘ এক দশক ধরে ঝুলে ছিল। 
যদিও ২০২৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর মনমোহন সিংহের প্রয়াণ ঘটে, তদুপরি তাঁর আইনি লড়াইয়ের আজ এক মর্যাদাপূর্ণ অবসান হলো। জীবিতাবস্থায় তাঁর সততা নিয়ে যে একমাত্র কোলব্লক বণ্টনের কালি ছেটানোর চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা, সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ে সেই ‘কলঙ্ক’ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হলেন ভারতের এই বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

আরও হট টপিক