রাজ্য
কালো টাকা সাদা করার খেল অভিষেকের সেবাশ্রয়ে সমালোচনায় ঋতব্রত
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমফানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক বা জনসেবামূলক ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প— বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সবেতেই চলেছে দেদার আর্থিক নয়ছয়। বিধানসভায় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশ হতেই এই দুর্নীতির কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই এবার সুর চড়ালেন ‘আসল’ তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ‘কালীঘাট’ তথা প্রাক্তন শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, জনসেবার নামে তৈরি এই ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পগুলো আসলে ছিল কালো টাকা সাদা করার একটা বড় আখড়া। প্রকল্পের আড়ালে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে যা ক্যাগ রিপোর্টে প্রমাণিত।
এখানেই শেষ নয়, আমফানের ত্রাণ তহবিলের টাকা লোপাট নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন ঋতব্রত। তিনি অভিযোগ করেন, উড়িশা ও বাংলার মানুষ যখন ঝড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, তখন সেই বিপর্যয়ের ত্রাণ তহবিলের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ‘ভাইপো’র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে কেম্যান আইল্যান্ড কিংবা ভানুয়াতুর মতো করমুক্ত দ্বীপরাষ্ট্রের গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই দুর্নীতির টাকা পাঠানো হয়েছে।
ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে এই রিপোর্টে সিলমোহর পেল, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। ঋতব্রতর এই সরাসরি আক্রমণের পর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে মমতার ‘ঘাসফুল শিবির’। যদিও কালীঘাটের পক্ষ থেকে এই আর্থিক তছরূপের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই নয়া রিপোর্টকে কেন্দ্র করে তরজা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে চলেছে।

