বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অবকাশ

ইস্কনের হাতে মিড ডে মিল

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬
ইস্কনের হাতে মিড ডে মিল
দেবজ্যোতি দে (ABRSM)দেবজ্যোতি দে (ABRSM)
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

দেবজ্যোতি দে (ABRSM)

আজ রথযাত্রার পবিত্র দিনে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সারা রাজ্যজুড়ে মিড ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইস্কনকে অর্পণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের অনুরোধে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে কলকাতায় এই দায়িত্ব   ইস্কন পালন করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানাই। ইস্কন , রামকৃষ্ণ মিশন বা ভারত সেবাশ্রমের  মতো প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠানের হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মানব সেবায় নিয়োজিত প্রাণ কিছু মহতী সাধুদের দ্বারা পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত। তাই এই সংস্থাগুলির তত্ত্বাবধানে শিশুদের মিড-ডে মিল নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস। 

  ইস্কন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের কয়েক কয়েক হাজার স্কুলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে যথারীতি পুষ্টিকর মিড ডে মিল সরবরাহ করছে। অক্ষয় পাত্র ও  ইস্কনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প WHO দ্বারা অত্যন্ত সমাদৃত। স্টিভ জোবসের মত ব্যক্তিত্বও ইস্কনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। ইস্কন ডিম সরবরাহ করবে না বলে গেল গেল রব তুলেছেন এক শ্রেণীর মানুষ। পুষ্টির প্রশ্নে শুধু মাসে কয়েকটি ডিম দিলেই যে পর্যাপ্ত খাদ্যমূল্য নিশ্চিত হয়, এমন নয়। ইস্কন প্রস্তাবিত শাকসবজি, ডাল, সয়াবিন, রাজমা, পনির,ছানা, পাঁপড় ইত্যাদি সমন্বিত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর  খাদ্যতালিকাও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তাই অযথা সমালোচনা না করে নবনির্বাচিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা এবং তার ইতিবাচক দিকগুলি বিবেচনা করা উচিত।

 বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরামিষ আহার করেই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা জীবনে কখনও আমিষ খাদ্য গ্রহণ করেননি, তবুও তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মক্ষম। অবশ্য কে কী খাবে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
মিড-ডে মিল প্রকল্পে এতদিন যে আর্থিক বরাদ্দ ছিল, তাতে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি না করে বর্তমান বাজারদরে নিয়মিত মাছ, মাংস বা ডিম সরবরাহ করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। কিছু মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়, যেন এর আগে স্কুলে নিয়মিত মাছ-মাংস পরিবেশন করা হতো, যা বাস্তবে অসঙ্গতিপূর্ণ। অভিভাবকরা চাইলে  তাঁদের সন্তানদের ইচ্ছামতো আমিষ খাদ্য খাওয়াতেই পারেন। সরকার এ বিষয়ে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করছে না। বরং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের ( অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ইত্যাদি) মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, যাতে তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে পারেন।

 এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ও কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে। কলকাতার বাইরে সম্ভব হলে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এ ধরনের উদ্যোগ বিবেচনাধীন ছিল। আজ রথযাত্রার পবিত্র দিনে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন যা খুব আশাব্যাঞ্জক।
এর ফলে মিড ডে মিলের মান ও পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন সময় উঠে আসা অভিযোগ বিতর্কেরও হয়ত অবসান হবে।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও অবকাশ খবর