সর্বশেষ খবর
জল, গ্যাস, বিদ্যুৎহীন পাকিস্তানের করাচি
প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পাকিস্তানের সবথেকে বড় এবং অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শহর করাচি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। তীব্র পানীয় জলের সংকটের পাশাপাশি সেখানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম ঘাটতি। একসঙ্গে এই তিন অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার অভাবে গোটা শহর জুড়ে দেখা দিয়েছে হাহাকার। দুর্ভোগের শেষ সীমায় পৌঁছে করাচির আমজনতা এখন রাস্তায় নেমে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, রান্নার ন্যূনতম গ্যাসটুকুও মিলছে না। সিলিন্ডার বা পাইপলাইন—সব জায়গাতেই গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে বহু পরিবারে দিনের পর দিন উনুন জ্বলছে না। তার ওপর আবার দোসর হয়েছে তীব্র জলকষ্ট। ঘরে খাওয়ার জল কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জলটুকুও পাওয়া যাচ্ছে না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চড়া দামে জল কিনতে হচ্ছে। ট্যাঙ্কার মাফিয়াদের পকেট ভরাতে সাধারণ মানুষের জমানো পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। এক ফোঁটা জলের জন্য শহরের অলিতে-গলিতে দীর্ঘ লাইন এখন চেনা ছবি।
এই জোড়া সংকটের মধ্যেই নতুন করে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সংকট। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। করাচির পারদও ছুঁয়েছে রেকর্ড সীমা। এই প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে মাথার ওপর পাখা চলে না, অন্যদিকে ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবার নষ্ট হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সব মিলিয়ে করাচির জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।
প্রশাসনের চরম উদাসীনতা এবং অব্যবস্থার বিরুদ্ধেই এখন ফুঁসে উঠছেন করাচিবাসী। শহরের একাধিক জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষুব্ধ মানুষ। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, কর দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের ন্যূনতম বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে দ্রুত এই তিন সংকটের সমাধান না হলে করাচি শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। কিন্তু এলাকার পর এলাকায় জনরোষ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে।

