বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

মোবাইল স্ক্রিনেই ফাঁদ, রাজ্যে ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মোবাইল স্ক্রিনেই ফাঁদ, রাজ্যে ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সশরীরে হাজির নেই অপহরণকারী। অথচ বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে গেল এক নাবালিকা! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ঠিক এই ঘটনাটিই ঘটেছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। সাইবার অপরাধের এক নতুন এবং ভয়ঙ্কর রূপ দেখল রাজ্যবাসী। পুলিশ একে বলছে ‘ডিজিটাল কিডন্যাপিং’ বা ভার্চুয়াল অপহরণ। এই চক্রের মূল নিশানা কমবয়সী স্কুলপড়ুয়ারা।

জগৎবল্লভপুরের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী সম্প্রতি এই নতুন বিপদের শিকার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে কোনো ব্যক্তি এসে জোর করে তুলে নিয়ে যায়নি। কোনো হোটেলে বা গোপন আস্তানাতেও আটকে রাখা হয়নি। গোটা অপহরণের প্রক্রিয়াটি চলেছে স্রেফ একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মেয়েটির ওপর এমন মানসিক চাপ তৈরি করে, যাতে সে নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
তদন্তে নেমে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। এই ধরনের অপরাধে অপরাধীরা প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় কিশোরীদের নিশানা করে। ভুল বুঝিয়ে বা ভয় দেখিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কিছু ছবি বা তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেই তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েদের মানসিকভাবে বন্দি করে ফেলা হয়। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরণের ‘ভার্চুয়াল বন্দিদশা’, যেখানে চোর সামনে থাকে না কিন্তু মনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
জগৎবল্লভপুরের ওই ছাত্রীকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের এই নতুন এবং অভিনব কৌশল দেখে নড়েচড়ে বসেছে লালবাজারও। এই অপরাধের মূল পান্ডাদের ধরতে ইতিমধ্যেই একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্তানরা মোবাইলে কী করছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অচেনা কারও সাথে সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করার বিপদ নিয়ে স্কুলগুলিতেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।