হট টপিক
সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু
প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকটা সীমান্ত গ্রামে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে জমি অধিগ্রহণ শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ওই সীমান্তবেষ্টিত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় কাঁটাতারের অভাব ছিল, ফলে প্রতিবেশী দেশের দুষ্কৃতী ও পাচারকারীদের যাতায়াত ছিল অবাধ। এতে স্থানীয় চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তেন। রাজ্য সরকার সীমান্তের সুরক্ষা বাড়াতে পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরে কাজ শুরুর জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে।
ডোমকল ব্লকে প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্লকভিত্তিক বৈঠক শুরু করেছে। বৈঠকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মকর্তারা, ব্লক প্রশাসন, পুলিশ ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, জমি সংক্রান্ত জটিলতার জন্য কাজ আগে থমকে গিয়েছিল; এখন সরকারি নির্দেশমতো দ্রুত কাঁটাতার বসানোর কাজ চালানো হবে।
কিন্তু এলাকাবাসীর মধ্যে এই নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। রানিনগর সীমান্তের রাজাপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরাও চাই নিরাপত্তা বাড়ুক, কিন্তু কাঁটাতার যেন শেষ সীমান্তরেখা, জিরো লাইনের ওপরেই হয়। যদি ভিতরে অনেকটুকু কাঁটাতার দেওয়া হয়। নাহলে আমাদের চাষের জমি হারানোর আশঙ্কা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, পাশের দেশের দুষ্কৃতীরা প্রায়ই জমিতে ঢুকে ফসল কেটে নেয় বা গবাদি পশু মেরে ফেলে; তাই কাঁটাতারের স্থান নির্ধারণ খুবই জরুরি বিষয়।
বামনাবাদ এলাকার সীমান্ত চেতনা মঞ্চের দীপঙ্কর মণ্ডলও বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দরকার বলেই আমরা সমর্থন করছি, কিন্তু সেটি যদি সীমান্ত থেকে ভিতরে বসানো হয়, তাহলে ভাঙনপ্রবণ এলাকার চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। এলাকার চাষিরা বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিজেপি নেতা শাখারভ সরকার।
মহকুমাশাসক শুভঙ্কর বালা বলেন, রানিনগরে শেষ বৈঠকে ভূমি অধিগ্রহণ ও কাঁটাতার স্থাপন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, পদ্মার ভাঙন ও প্রযুক্তিগত বিবেচনা মাথায় রেখে সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই অনুযায়ী কাঁটাতারের কাজ হবে। প্রশাসন চেষ্টা করছে স্থানীয় লোকজনের ক্ষতি না হয়। তাই কথাবার্তা ও সমঝোতার মাধ্যমে ব্যাপারটি দ্রুত সমাধান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

