হট টপিক
তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার সম্ভাবনা, জল্পনা তুঙ্গে
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে? এই অত্যন্ত জটিল এবং কঠিন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর সম্ভবত নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার আসন্ন উপনির্বাচনের আগে পাওয়া যাবে না। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তবে এখনই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কমিশন সূত্রের খবর, আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেওয়া হতে পারে তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি।
তৃণমূলের প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র আইনি টানাপোড়েন চলছে। সেই সংঘাত এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বিবাদের মীমাংসা করতেই আজ, শনিবার দুই পক্ষকেই নিজেদের জোরালো যুক্তি ও প্রমাণ পেশের জন্য দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনে শুনানির জন্য প্রথমে প্রবেশ করে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং তারপর নিজেদের সওয়াল পেশ করে ‘কালীঘাট তৃণমূল।’
এদিন দীর্ঘ বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আসল তৃণমূলের প্রতিনিধিদল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেন, “তৃণমূল কারও বাবার দল নয়।” একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতার প্রত্যয়ী দাবি, আইনি লড়াই শেষে আসল প্রতীকের দখল থাকবে তাঁর শিবিরের হাতেই।
অন্যদিকে, পাল্টা একই দাবি করেছে কালীঘাট তৃণমূলের নেতৃত্বও। কালীঘাট শিবিরের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য শুনানির পর কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কমিশন হয়তো কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। তবে কমিশন যদি তেমন কোনও স্থগিতাদেশ বা নির্দেশ না দেয়, তাহলে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তাদের চেনা জোড়াফুল প্রতীকেই লড়াই ময়দানে নামবে। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে বাংলার শাসকদলের প্রতীক ভাগ্য এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের কোর্টে।

