হট টপিক
সীমান্তে ওষুধের আড়ালে নেশার কারবার, বাজেয়াপ্ত লক্ষাধিক টাকা
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন, স্বরূপনগর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী স্বরূপনগরে ওষুধ দোকানের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল নিষিদ্ধ মাদক ও পাচারের কারবার। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসারদের এক আচমকা হানায় বুধবার ফাঁস হলো এই চক্র। উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক ওষুধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকার এক ব্যবসায়ী বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ওষুধের দোকান চালাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই দোকানের আড়ালেই চলছিল অন্য খেলা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা সেখানে হানা দেন। তল্লাশি চালাতেই লাইসেন্স থাকা দোকানের ঠিক বাইরের অংশ থেকে উদ্ধার হয় বস্তা বস্তা ওষুধের স্ট্রিপ। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এগুলি আসলে এক ধরণের ব্যথার ওষুধ। আর আন্তর্জাতিক সীমান্তে এই বিশেষ ওষুধের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, কাশির সিরাপের রমরমা বাজারকে টেক্কা দিয়ে এখন এই ব্যথার ওষুধ দিয়েই দেদার নেশা চলছে সীমান্ত এলাকায়। শুধু স্বরূপনগরের এই দোকানটি থেকেই বুধবার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। অফিসারদের অনুমান, এই রুট দিয়ে বছরে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ওষুধ ওপার বাংলায় পাচার করা হচ্ছে।
সীমান্তের এই নতুন ধরণের মাদক পাচার নিয়ে সম্প্রতি বিএসএফ (BSF) এবং বিজিবি (BGB)-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, পাচারকারীরা নজরদারি এড়াতে নিত্যনতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কখনও ধানের শিসের ভেতর লুকিয়ে, আবার কখনও সাইকেলের সাইলেন্সরের পাইপের মধ্যে পুরে এই ব্যথার ওষুধ সীমান্ত পার করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।

