শিষ্টাচার, বিশেষ গুণ
শিষ্টাচার মনুষ্য-চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ,যে গুণের বিকাশ ব্যক্তিচরিত্রকে অধিকতর সুষমামণ্ডিত করে তোলে। ব্যক্তি চরিত্রের এই গুণের বিকাশ পারিবারিক, সামাজিক এবং জাতীয় জীবনকে সমানভাবে প্রভাবিত করে। শিষ্টাচার মনুষ্যচরিত্রকে ভীষণভাবে মহিমান্বিত করে। শিষ্টাচার বলতে আমরা সাধারণত বুঝি মহৎ ব্যক্তি কর্তৃক পালিত আচার-আচরণ। শিষ্ট শব্দটির ব্যুৎপত্তি শাস্ +ক্ত, অর্থাৎ যিনি নিজেকে শাসন করেন। যেসব আচরণে মানুষের সুশৃংখল ও সুমার্জিত মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় তাই শিষ্টাচার। গুণী ও সম্মানীয় ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন শিষ্টাচারের একটি বিশেষ অঙ্গ। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, "যাকে অনেকে গণে-মানে, তা বিদ্যার জন্যই হোক বা গান-বাজনার জন্যই হোক বা লেকচার দেবার জন্যই হোক বা আর কিছুর জন্যই হোক —নিশ্চিত জেনো যে, তাতে ঈশ্বরের বিশেষ শক্তি আছে। গীতাতেও ভগবান বলছেন, যাহা যাহা ঐশ্বর্যযুক্ত, শ্রীসম্পন্ন বা শক্তিমান, সেই সকলই আমার অংশসম্ভূত বলে জানবে। তাই তাদের প্রতি যথাযথ সৌজন্য প্রদর্শন একান্ত কর্তব্য, এবং এটাই শিষ্টাচার সম্মত। প্রাচীন ভারতের শিক্ষাপ্রণালীতে শিষ্যদের চরিত্রকে সদ্ গুণরাশি ও শিষ্টাচার সমন্বয়ে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতেন আচার্য তথা গুরুগণ। বর্তমানে সেই শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেই। আবার সেই আচার্যও নেই। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা স্বভাবতই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুকরণ করে থাকে। তাই শিক্ষকদের মধ্যে সেই শ্রদ্ধাশীলতা ও শিষ্টাচারের অভাব থাকলে তারা আর কি শিখবে! পরিবার থেকেও শিষ্টাচার শেখার সুযোগ অনেক কমে আসছে। পিতা-মাতার চরিত্রে এইসব গুণাবলী না থাকলে সন্তানদের চরিত্রেও সেই গুণরাশির ঘাটতি পড়বে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল ও শিষ্টাচারসম্পন্ন করে গড়ে তোলবার জন্য আমাদের নিজেদের পাল্টাতেই হবে। না হলে অশ্রদ্ধা ও শিষ্টাচারবিহীনতার তীর নিজের দিকেই ফিরে আসবে।

