হট টপিক
চাকরি বাঁচাতে কর্মরত শিক্ষকদেরও দিতে হবে টেট পরীক্ষা
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সব জল্পনার অবসান। সুপ্রিম কোর্টের Supreme Court কড়া নির্দেশ মেনে শেষ পর্যন্ত কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আবশ্যিক ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ বা টেট নেওয়ার পথেই হাঁটল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ মেনে বছরে অন্তত দু’টি টেট পরীক্ষা নিতে হবে। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত যে শিক্ষকরা এখনও টেট উত্তীর্ণ নন, তাঁদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে এই পরীক্ষায় বসা বাধ্যতামূলক। শীর্ষ আদালত আগে এই যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাখলেও, সম্প্রতি তা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট করেছে। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এরপর আর কোনওভাবেই সময় বাড়ানো হবে না।
এই সরকারি নির্দেশিকা সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় এক লক্ষ শিক্ষককে নতুন করে পরীক্ষার খাতায় কলমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, বহু বছর ধরে সফলভাবে শিক্ষকতা করার পর, এই বয়সে এসে হঠাৎ নতুন করে টেট পরীক্ষায় বসা কতটা যুক্তিযুক্ত? তবে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, যাঁদের অবসরের আর মাত্র পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের এই পরীক্ষা দেওয়া থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশকে মর্যাদা দিয়ে খুব দ্রুত পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। পর্ষদ ও কমিশন যৌথভাবে এই পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মরত শিক্ষকদের ওপর এই নতুন নিয়ম চাপানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠনগুলি আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের পথ খোঁজার কথা ভাবছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে এখন চরম অস্থিরতা। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের শিক্ষক সেলের সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, ‘আগে আমরা অ্যাফেকটেড ট্রেইন্ড টিচার্স নামে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিলাম। ফের আমরা সেই নামেই মামলার পথে হাঁটছি। মুখ্যমন্ত্রীকেও আবেদন জানাচ্ছি, নির্দিষ্ট সময়ের আগে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকদের যেন বাধ্যতামূলক টেট-এ বসতে না হয়। এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রের কাছে দরবার করুন।’ বিজেপি শিক্ষা সেলের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘আমরা এখনও বলছি, কোনো শিক্ষককেই টেট দিতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন। কেন্দ্রের কাছে তিনি অর্ডিন্যান্স জারির আবেদন জানাবেন বলে আশা রাখি।’

