হট টপিক
নদীবাঁধ মেরামতে হুগলিতে বরাদ্দ প্রায় তিন কোটি
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: বর্ষার মরসুমে হুগলি জেলার নদীবাঁধগুলির ভাঙন রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। বাঁশের বল্লা আর বালির বস্তা দিয়ে জোড়াতালির অস্থায়ী কাজ শেষ হতেই এবার পাকাপাকিভাবে বাঁধ মেরামতের বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। জেলার ৪২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক জায়গায় নদ-নদীর বাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য মোট ২ কোটি ৯১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩২৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে এই নিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী বুধবারই এই দরপত্র খোলা হবে। যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তারপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমে কাজ শুরু করে দেবে সেচ দপ্তর। এবারের বরাদ্দের সিংহভাগ টাকাই খরচ করা হবে জেলার সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত আরামবাগ মহকুমাতে। প্রতি বছর বর্ষায় এই এলাকার নদীগুলি উপচে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। তাই এবার আগেভাগেই সতর্ক প্রশাসন।
সেচ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আরামবাগ মহকুমার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী এবং রূপনারায়ণ নদের বাঁধের পাশাপাশি ওই সব নদ-নদীর বিভিন্ন শাখা খালের বাঁধও এবার স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে। এর ফলে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি এবং বহু গ্রাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আরামবাগ ছাড়াও সেচ দপ্তরের নজর রয়েছে জেলার অন্যান্য ব্লকেও। এই প্রকল্পের অধীনে দামোদর নদের বাঁ দিকের তারকেশ্বর, জাঙ্গিপাড়া এবং ধনেখালির বেশ কয়েকটি অতি স্পর্শকাতর এলাকার বাঁধও নতুন করে শক্তপোক্ত করে গড়ে তোলা হবে। বর্ষার ভরা মরসুমে এই স্থায়ী সংস্কারের খবর সামনে আসায় নদীপাড়ের হাজার হাজার বাসিন্দা এবং কৃষকদের ঘরের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

