হট টপিক
নিখরচায় সোমনাথ দর্শনে রওনা দিলেন বাংলার পুণ্যার্থীরা
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগে থেকেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই আজ, শনিবার কলকাতার চিত্তরঞ্জন স্টেশন বা কলকাতা স্টেশন থেকে রাজ্যের পুণ্যার্থীদের নিয়ে গুজরাতের সোমনাথের উদ্দেশ্যে রওনা দিল একটি বিশেষ ট্রেন। এদিন দুপুরে কলকাতা স্টেশনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পুণ্যবাহী ট্রেনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্ণ হয়েছে চলতি ২০২৬ সালে। এই বিশেষ ঐতিহাসিক স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে বছরব্যাপী দেশজুড়ে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। এই পুণ্য কর্মসূচির অধীনেই সম্পূর্ণ নিখরচায় আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত ভগবান শিবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ তীর্থস্থানের মধ্যে প্রথমটির দর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পুণ্যার্থীরা।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য থেকে প্রথমে মোট এক হাজার জন পুণ্যার্থীকে এই বিশেষ তীর্থযাত্রায় পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু পরে মানুষের ব্যাপক উৎসাহের কথা মাথায় রেখে পুণ্যার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। শেষ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১০০ জন পুণ্যার্থীকে সম্পূর্ণ নিখরচায় ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোমনাথ দর্শনে নিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন।
যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় ট্রেনের ভেতরেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নিখরচায় এমন একটি পবিত্র স্থানে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া তীর্থযাত্রীদের মনে। এদিন স্টেশন চত্বরে পুণ্যার্থীদের উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, রাজ্যবাসীকে নির্বিঘ্নে তীর্থভ্রমণ করানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুণ্যার্থীরা সোমনাথে পৌঁছে বাবা বিশ্বনাথের পুজো দেবেন।

