জেলা
ঘুষ কাণ্ডে ঝাড়গ্রাম থেকে ধৃত ২ ইনস্পেক্টর
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: পণ্যবাহী ট্রাক আটকে টাকা চাওয়ার অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না পরিবহণ দপ্তরের দুই ইনস্পেক্টরের। শেষ পর্যন্ত ঝাড়গ্রামের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট থেকে তাঁদের গ্রেফতার করল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। ধৃতদের নাম নাজিমুল হক ও অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং এসিপি (কুলটি) শেখ জাভেদ হুসেনের একটি বিশেষ দল যৌথ অভিযান চালিয়ে এই দুই অফিসারকে জালে তুলেছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া কুলটির রামপুর চেকপোস্টে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দূরপাল্লার গাড়ি আটকে তোলাবাজি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এই দুই ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বহু আগেই বিলুপ্ত করে দেওয়া একটি পুরনো করের নাম করে তাঁরা এক ট্রাকচালকের কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রেখে চালককে মানসিক হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ।
গত ২৩ জুলাই রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে ওই রাতেই পরিবহণ দপ্তরের তরফে এই দুই অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস রুলস, ১৯৭১’-এর বিধি ৭(১)(ক) প্রয়োগ করে তাঁদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার পর থেকেই ওই দুই ইনস্পেক্টর গা ঢাকা দিয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। অবশেষে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে যে তাঁরা ঝাড়গ্রামের একটি রিসর্টে লুকিয়ে রয়েছেন। ধৃতদের আসানসোলে এনে জেরা করা হচ্ছে। এই তোলাবাজি চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় মাথার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

