বিদেশ
ইউনুসের উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: ওলটপালটের বাংলাদেশে এবার আর্থিক কেলেঙ্কারির এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে ‘স্বচ্ছতা ও সততার’ কথা বলে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, তার ভিত নড়ে গেল নতুন এক দুর্নীতি মামলায়। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। এই মেগা কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যেই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে তারা।
দুদক সূত্রে জানা গিয়েছে, আসিফ মাহমুদ তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন এবং বিভিন্ন বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কোটি কোটি টাকার কমিশন খেতেন। অভিযোগ, এই দুর্নীতির কালো টাকাই সুপরিকল্পিতভাবে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের মতো চার দেশে পাচার করা হয়েছে। যার মোট পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, পাচার করা এই বিপুল অর্থ দিয়ে পর্তুগালে বিলাসবহুল জমি কেনা এবং দুবাইয়ের নামী ব্যবসায়িক গ্রুপে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্যও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।
এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে হেনস্থা করতেই একটি নির্দিষ্ট মহলের ইশারায় এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, তদন্তে যদি সত্যিই বিদেশে তাঁর কোনো সম্পত্তির হদিশ মেলে, তবে সেখান থেকে যেন তাঁকে ১০ শতাংশ দেওয়া হয়, কারণ এখন তাঁর সংসার চালানোই দায়! তবে আসিফের এই রসিকতা ও সাফাইয়ের পরেও জনমানসে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটছে না। ঢাকার রাজনৈতিক মহলের মতে, আগের সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেই যখন হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠছে, তখন ইউনুস প্রশাসনের নৈতিক অবস্থান নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

