বিদেশ
প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধারালো দ্বিভাষী লেখনী এবং বহুভাষা চর্চার অসামান্য উত্তরাধিকার নিয়ে চলে গেলেন এক ভিন্ন যুগের নিখাদ বাঙালিয়ানার প্রতিনিধি। শুক্রবার ইংল্যান্ডের স্থানীয় সময় ভোর ৩টে নাগাদ অক্সফোর্ডের একটি হাসপাতালে পূর্ণচ্ছেদ পড়ল তাঁর বর্ণময় জীবনযাত্রায়। দীর্ঘ রোগভোগের পর ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক তথা রবীন্দ্র-গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন।
বছর দশেক আগে অক্সফোর্ডের বাড়ি থেকে শেষবার তিলোত্তমায় এসেছিলেন এই প্রাবন্ধিক। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে আয়োজিত একটি সাহিত্য সভায় এসে মুক্তকণ্ঠে চেনা মেজাজে বলেছিলেন, ‘‘যত ভাষা জানবে, খেলাটা তত জমবে।’’ নিজের জীবনজুড়ে সেই খেলারই সাক্ষ্য রেখে গিয়েছেন তিনি। জাহাজের মতোই তাঁর জীবনও বিচরণ করেছে বিশ্বের নানা ভাষার ঘাটে ঘাটে। গত ৩১ অগস্ট হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এই গবেষক। তার পরই তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।
অক্সফোর্ডে কেতকী দেবীর সহপাঠী তথা তাঁর স্বামী রবার্ট ডাইসন শেষ দিনগুলির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, হাসপাতালে অত্যন্ত যত্নে কেটেছে তাঁর শেষ সময়টা. সেখানে ঘরের অন্য দুই রোগীর সঙ্গেও চমৎকার সখ্য গড়ে উঠেছিল কেতকীর। রবার্ট তাঁদের কেতকীর কবিতার বইও উপহার দিয়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে কেতকী কুশারী ডাইসনের চোখ-মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এসেছিল। মনে হচ্ছিল, যেন অনেক কমবয়সি এক তরুণী ঘুমিয়ে রয়েছেন। দু’বারের আনন্দ পুরস্কারজয়ী কেতকী। ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ উপন্যাস এবং রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা ও রং চর্চা নিয়ে সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে গবেষণামূলক কাজের জন্য দু’বার ওই সম্মাননা পান।
প্রয়াত সাহিত্যিকের পরিবারে বর্তমানে স্বামী রবার্ট ডাইসন ছাড়াও রয়েছেন তাঁদের দুই পুত্র. তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের প্রবাসী ধারার এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

