রাজ্য
অনুমোদনহীন ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করল রাজ্য, শোরগোল শিক্ষা মহলে
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পদক্ষেপ করল সরকার। পরিকাঠামো ও তহবিলের অভাব-সহ একাধিক কারণে রাজ্যের ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধ করে দিল সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। রবিবার রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপে শিক্ষা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। প্রতিটি মাদ্রাসার নিজস্ব পরিকাঠামো কেমন এবং তাদের তহবিলের উৎস কী, সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য স্তর থেকে বিশেষ পরিদর্শকের দলও পাঠানো হয়েছিল। পরিদর্শকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২৫২টি মাদ্রাসাকে সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও একশোটি মাদ্রাসার কাজে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। তাদের ইতিমধ্যেই ‘শো-কজ়’ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছে শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা হাওড়ার খাজনাবাহালা হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ১০ হাজার মাদ্রাসার অনুমোদন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর রাজ্যের নানা প্রান্তে নতুন মাদ্রাসা গড়ে ওঠে। বিগত ১০ বছরে কিছু মাদ্রাসা অনুমোদন পেলেও বাকিরা তা পায়নি। তারা কোনও সরকারি সাহায্যও পেত না।’’ মনিরুলবাবুর দাবি, এই অনুমোদনহীন এবং সাহায্যহীন মাদ্রাসাগুলিই বন্ধ করা হয়েছে। ফলে মূল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে হঠাত এতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ওই মাদ্রাসাগুলির পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

