রাজ্য
শুভেন্দুর বুকস্টল সমালোচনায়, বিবেকানন্দকে ‘ঢাল’ বামেদের
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে সিপিএমের বুকস্টল খোলার দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য নিয়ে এবার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হল তুমুল চাপানউতোর। প্যান্ডেল থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল শালু আর দলীয় পতাকায় মোড়া বামেদের এই বইয়ের স্টল নিয়ে লাগাতার চাঁছাছোলা সমালোচনা ধেয়ে আসছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে।
শনিবার এক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, কমরেডদের ওই স্টলগুলিতে মার্ক্স-লেনিন ছাড়া অন্য কোনও বই দেখা যায় না। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী লোকেশ্বরানন্দ কিংবা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মতো সনাতন ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার মনীষীদের কোনও বই সেখানে স্থান পায় না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিতে স্বামী বিবেকানন্দকেই হাতিয়ার করেছে সিপিএম। সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ সিপিএমের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের বই থাকার দাবি করে বলেন, “দুটো জিনিস জানতে পারবেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পার্টি স্টলে বিবেকানন্দের লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা – এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় কথা, বাঙালিকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে মার্ক্স-লেনিনের বই পড়তে যিনি প্রথম শিখিয়েছিলেন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, নিজের মায়ের পেটের ভাই, কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।” এনিয়ে ফেসবুকে পোস্টও করেন তিনি।
তবে বামেদের এই পাল্টা যুক্তির পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীত ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে। এক সময়ে এই বামপন্থীরাই বিশ্ব কাঁপানো সনাতন সংস্কৃতির ধারক স্বামী বিবেকানন্দকে ‘আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্যবাদী’ সহ একাধিক নেতিবাচক বিশেষণে ভূষিত করেছিল। তৎকালীন বাম তাত্ত্বিকদের কলমে স্বামীজিকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি।
ইতিহাসের সেই অধ্যায়কে সাক্ষী রেখে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় আজ সেই বিবেকানন্দকেই ‘ঢাল’ করতে বাধ্য হচ্ছেন বর্তমান যুগের বামপন্থীরা। মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের মুখে নিজেদের বাঙালি আবেগ ও জাতীয়তাবাদের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই বামেদের এই ভোলবদল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

