রাজ্য
পাহাড়ে প্রকৃতির দুই রূপ: ধসে বিপর্যস্ত রাস্তা, মরশুমের প্রথম তুষারপাতে খুশির হাওয়া পর্যটনে
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আশ্বিনের একটানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চল। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমের একাধিক জায়গায় দফায় দফায় ধস নামে। এই ধসের জেরে সিকিমের ‘লাইফ লাইন’ বলে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ১৯ ও ২০ মাইলের মতো অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা-সহ একাধিক পাহাড়ি রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল, সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। এই ধসের জেরে ডজন ডজন পর্যটক বোঝাই বাস ও গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকার ধসের পাশাপাশি তিস্তা নদীর জলস্তরও বিপজ্জনকভাবে অনেকটাই বেড়েছে। এর জেরে ডোয়ার্স-সহ নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কালঝোরো ও সেভকের মতো এলাকাগুলিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে।
তবে এই দুর্যোগের মাঝেই সিকিম পাহাড়ে দেখা গেল প্রকৃতির এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। একদিকে ধসের আতঙ্ক, অন্যদিকে অকাল তুষারপাত! শীত আসার আগেই, শরৎকালের এই আশ্বিনের বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেই মরশুমের প্রথম তুষারপাতের সাক্ষী থাকল ছাঙ্গু (সোমগো) রুট এবং উত্তর ও পূর্ব সিকিমের উচুঁ পার্বত্য অঞ্চল। ছাঙ্গু রুট থেকে শুরু করে আইটিবিপি (ITBP) ক্যাম্প এলাকা পুরোপুরি বরফের সাদা চাদরে ঢেকে গিয়েছে।
শরতের এই বৃষ্টি ও ধস পাহাড়ে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি করলেও, মরশুমের প্রথম এই তুষারপাত নিয়ে তুমুল উচ্ছ্বসিত উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, আসন্ন পুজোর ছুটিতে এই টাটকা বরফের আকর্ষণে পাহাড়প্রেমী পর্যটকরা রেকর্ড সংখ্যায় ভিড় জমাবেন। ধস সরিয়ে রাস্তা দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দল।

