বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: দাঁতের যত্নেই লুকিয়ে হাসির রহস্য

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: দাঁতের যত্নেই লুকিয়ে হাসির রহস্য
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিনিধি: কথায় বলে, "দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা যায় না।" কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার একটি বড় অংশ নির্ভর করে মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিনের ওপর। দাঁত ও মাড়ির অবহেলা শুধু যে মুখের দুর্গন্ধ বা ক্যাভিটি তৈরি করে তা নয়, এটি হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং হজমের গোলমালের মতো বড় রোগের কারণও হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দৈনন্দিন জীবনে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই মুক্তোর মতো ঝকঝকে দাঁত এবং সুস্থ মাড়ি বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা দাঁতের সুরক্ষায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন:
•    দিনে দু’বার নিয়ম মেনে ব্রাশ: সকালের পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা সবচেয়ে জরুরি। রাতে মুখের ভেতর লালা বা স্যালাইভা তৈরি কম হয়, যার ফলে ব্যাকটিরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
•    সঠিক ব্রাশ ও পেস্ট নির্বাচন: সবসময় নরম বা 'সফট' ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায় এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। পেস্টের ক্ষেত্রে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা ভালো।
•    ব্রাশ করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: অনেকে খুব জোরে বা তাড়াহুড়ো করে ব্রাশ করেন। চিকিৎসকদের মতে, ওপর-নিচ এবং বৃত্তাকার (Circular) মোশনে হালকা হাতে অন্তত দু'মিনিট ধরে ব্রাশ করা উচিত। প্রতি তিন মাস অন্তর পুরনো ব্রাশ বদলে ফেলা বাধ্যতামূলক।
•    জিভ পরিষ্কার ও ফ্লসিং: শুধু দাঁত মাজলেই মুখের যত্ন শেষ হয় না। জিভের ওপর জমে থাকা সাদা আস্তরণ ব্যাকটিরিয়ার বাসা। তাই রোজ জিভ পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার বের করতে 'ডেন্টাল ফ্লস' (এক ধরণের বিশেষ সুতো) ব্যবহার করা উচিত।
•    খাদ্যাভ্যাসে বদল: অতিরিক্ত মিষ্টি, চকোলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা চটচটে খাবার দাঁতের এনামেলের চরম ক্ষতি করে। এই ধরণের খাবার খাওয়ার পর ভালো করে কুলকুচি করা দরকার। অন্যদিকে ফাইবারযুক্ত ফল, শাকসবজি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দাঁতকে মজবুত করে।
•    জল পানের গুরুত্ব: পর্যাপ্ত জল খেলে মুখে লালা বা স্যালাইভার ক্ষরণ ঠিক থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবেই মুখ পরিষ্কার রাখে এবং অ্যাসিডের প্রভাব নষ্ট করে।
•    নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে অন্তত দু’বার অভিজ্ঞ ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত পরীক্ষা বা স্কেলিং করানো উচিত।
মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং যেকোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই অবহেলা না করে আজ থেকেই দাঁতের যত্ন নেওয়া শুরু করুন। মনে রাখবেন, একটি সুন্দর ও সুস্থ হাসির চেয়ে দামি আর কিছুই হতে পারে না।

আরও জীবনযাপনের খবর