আয়ু বাড়ানোর মেশিনের লক্ষ্যে পুতিন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মানুষ অমর হতে চায়। কিন্তু প্রতিটি দিন প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু এসে কড়া নাড়ে আমাদের দরজায়। অথচ
চিরকাল বেঁচে থাকার এক অভিনব ও অদ্ভুত মিশনে নেমেছেন ৭৩ বছর বয়সী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মআয়ু বাড়ানোর এই প্রকল্পে তিনি অন্তত ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস' নামের এই রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের অধীনে কোষের বার্ধক্য রোধ করার জন্য জিন-থেরাপি, থ্রিডি প্রিন্টেড অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি এবং জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন বা শূকরের দেহে মানব অঙ্গ বৃদ্ধির মতো অবিশ্বাস্য সব গবেষণা চলছে। তবে তথাকথিত এই বৈজ্ঞানিক গবেষণার বাস্তব ভিত্তি কতটা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
গত এপ্রিলে রাশিয়ার উপ-বিজ্ঞান মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি জানান, বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের ওষুধটি অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল একটি আবিষ্কার। সরকার এই গবেষণায় অর্থ খরচ করছে। রুশ বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি এবং মানুষের তরুণাস্থি সফলভাবে বায়োপ্রিন্টিং বা থ্রিডি প্রিন্ট করার দাবি করেছেন।
এরপরের মিশন মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ অঙ্গ থ্রিডি প্রিন্ট করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এটি কোনো গোপন ল্যাবরেটরির পাগলাটে বিজ্ঞানীদের কাজ নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পুতিন নিজেই এই উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। ক্রেমলিনের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। এই বিশাল উদ্যোগের নেতৃত্বে আছেন পুতিনের নিজের মেয়ে, ৪১ বছর বয়সী এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মারিয়া ভোরনটোভা এবং প্রখ্যাত রুশ পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক।
তবে সমালোচকদের মতে, এই গবেষণার কথা আন্তর্জাতিক মানের কোনো 'পিয়ার-রিভিউড' নিবন্ধ বা গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি।
রুশ বায়োপ্রিন্টিংয়ের পথিকৃৎ আলেকজান্ডার অস্ট্রোভস্কি জানান, বিচ্ছিন্নভাবে বিজ্ঞান চর্চা করে এমন যুগান্তকারী ফলাফল অর্জন অসম্ভব। তাঁর মতে, বিজ্ঞানীরা কেবল তহবিল নিশ্চিত করার জন্য পুতিনকে খুশি করার মতো কাল্পনিক কথা বলছেন। এমনকি পুতিনের চিকিৎসায় নিযুক্ত শীর্ষ চিকিৎসক ভ্লাদিমির খাভিনসন ২০২৪ সালে তার মৃত্যুর আগে জানিয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল পুতিনের আয়ু বাড়ানো এবং মানুষের গড় আয়ু ১২০ বছরে উন্নীত করা।
তবে দীর্ঘায়ু নিয়ে পুতিনের এই মোহ নতুন নয়। ঘোড়ায় চড়া, শিকার করা বা বরফ-শীতল ক্রায়োথেরাপি চেম্বারে খালি গায়ে স্নান করার মতো তার নানা কর্মকাণ্ড তিনি করেছেন। এমনকি ২০২৫ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক আলাপচারিতায় এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলরের সাথেও তিনি অমরত্ব ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ১৯৬৮ সালের সোভিয়েত চলচ্চিত্র 'ডেড সিজন' দেখে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পুতিনের মধ্যে এই ধারণার বীজ রোপিত হয়েছিল, যা তাকে কেজিবিতে যোগ দিতেও অনুপ্রাণিত করে। তবে দীর্ঘায়ু নিয়ে পুতিনের এই অতিরিক্ত আবেগ তার জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ভিডিওতে তার হাত-পা কাঁপার দৃশ্য দেখে অনেকেই তার গুরুতর অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুর পর রাশিয়ান জনগণকে ধোঁকা দিতে 'বডি ডাবল' ব্যবহারের মতো নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করছেন।

