মেসি কাণ্ডে নয়া মোড়! প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশের এফআইআর
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বহুল চর্চিত 'মেসি কাণ্ড' নিয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় নিল। এবার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি নতুন এবং পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। গোটা অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্তের দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই নতুন মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁকে ডেকে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। উল্লেখ্য, কলকাতায় বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় মাঠে চরম অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যার জেরে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে জেলেও যেতে হয়েছিল।
সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই শতদ্রুবাবু এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি থানায় অভিযোগ করে স্পষ্ট জানান যে, তৎকালীন ক্ষমতাশালী ক্রীড়ামন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে অন্যায়ভাবে চাপ দিয়েছিলেন। শতদ্রু দত্তের অভিযোগ অনুসারে, অনুষ্ঠানটি করার জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তাঁর কাছ থেকে জোর করে প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট এবং অ্যাক্সেস কার্ড হাতিয়ে নেন। সেই সমস্ত টিকিট পরে চড়া দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর নির্দেশেই বহু অননুমোদিত ব্যক্তি মাঠে ও ভিআইপি জোনে ঢুকে পড়েন। স্বয়ং লিওনেল মেসির সঙ্গে জোর করে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়, যা ফুটবল তারকার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বলয়কে বিঘ্নিত করে এবং স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।
অভিযোগকারী শতদ্রু দত্ত সামাজিক মাধ্যমে এফআইআর-এর কপি পোস্ট করে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং লিখেছেন, "সত্যের জয় হয়েছে।"
বিধাননগর দক্ষিণ থানা প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জালিয়াতি, হুমকি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা উদঘাটন করতে খুব দ্রুতই অরূপ বিশ্বাসকে নোটিশ পাঠিয়ে থানায় তলব করা হবে। হাইপ্রোফাইল এই মেসিকাণ্ডে এমন বড় পদক্ষেপের পর ক্রীড়ামহল থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

