সর্বশেষ খবর
পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতিতে মেতেছে চীন
প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চীনের একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি অঞ্চলে গড়ে ওঠা নতুন ও বিশাল সামরিক পরিকাঠামো ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার যেকোনো সম্ভাব্য পরমাণু হামলার কড়া প্রত্যুত্তর দিতেই জিনপিং সরকার অত্যন্ত গোপনে এই নতুন যুদ্ধ পরিকাঠামো গড়ে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে যে, চীনের পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রাখার জন্য অত্যন্ত পরিচিত ‘হামি সাইলো ফিল্ড’-এর ঠিক কাছেই নতুন করে প্রায় ৮০টি মিসাইল লঞ্চপ্যাড এবং বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই দুর্গম মরুভূমি অঞ্চলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই নতুন ঘাঁটিতে চীনের সবচেয়ে দীর্ঘতম পাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) মোতায়েন করা হবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি পরমাণু অস্ত্র বহন করে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশ আমেরিকা ও চীনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরেই নানা বিষয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চীন আসলে নিজের সুরক্ষাকবচ মজবুত করছে। আমেরিকা যদি কখনো চীনের ওপর প্রথম পরমাণু হামলা চালায়, তবে চীন যেন তার সম্পূর্ণ জবাব দিতে প্রস্তুত থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই গোপন মরুভূমির ঘাঁটি তৈরি। এই ৮০টি নতুন লঞ্চপ্যাড থেকে একসঙ্গে একাধিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিমেষের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে।
চীনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার বা 'কোল্ড ওয়ার'-এর আবহ তৈরি হয়েছে। আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন ইতিমধ্যেই বেইজিংয়ের এই পরমাণু শক্তি বৃদ্ধির ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে চীন এই বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এই নতুন সামরিক পরিকাঠামো আগামী দিনে এশিয়া তথা গোটা বিশ্বের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা।

