সর্বশেষ খবর
বেহালা বিমানবন্দরে জবরদখল মুক্ত করতে জমি সমীক্ষার কাজ শুরু
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতার বেহালা বিমানবন্দরকে পুরোপুরি সচল করতে এবং যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে বড়সড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এবং জবরদখলের গ্রাসে চলে যাওয়া এই বিমানবন্দরকে পুনরায় কাজের উপযোগী করে তোলার জন্য শনিবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের জমি সমীক্ষার কাজ করা হয়েছে। এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরের নিজস্ব জমির প্রকৃত পরিমাণ খতিয়ে দেখা এবং জবরদখল হওয়া অংশগুলিকে চিহ্নিত করে তা মুক্ত করা।
সমগ্র এই উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাটির পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (BJYM) রাজ্য সভাপতি তথা বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। এলাকা তথা রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নতির স্বার্থে তিনি বিমানবন্দরটি চালু করার জন্য বিশেষ সক্রিয় হয়েছেন।
এই বিষয়ে কিছুদিন আগেই তিনি দিল্লির এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) বা ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের সূত্র ধরেই রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বিমানবন্দরের এলাকা খতিয়ে দেখতে এই যৌথ সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেহালা বিমানবন্দরটি যখন প্রথম তৈরি হয়েছিল, তখন সেখানে বিমান ওঠানামার জন্য একটি ৯১৫ মিটারের রানওয়ে ছিল। কিন্তু দীর্ঘ বহু বছর ধরে এই বিমানবন্দরটির কোনো বাণিজ্যিক বা সাধারণ ব্যবহার না হওয়ায় এর বিস্তীর্ণ জমি ধীরে ধীরে স্থানীয়ভাবে জবরদখল হতে শুরু করে। উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং সাধারণ বাণিজ্যিক বিমান বা ছোট চার্টার্ড প্লেন ওঠানামা করানোর জন্য কমপক্ষে ১৫০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন হয়। অথচ বর্তমানে জবরদখলের দাপটে মাত্র ৬০০ মিটারের কাছাকাছি রানওয়ের জায়গা অক্ষত রয়েছে, যা বিমান চালানোর জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল।
শনিবারের এই সরকারি সমীক্ষার পর রাজ্য প্রশাসন আশাবাদী, খুব দ্রুত এই জমি সংক্রান্ত জট কেটে যাবে। জবরদখল হওয়া বাকি জমি পুনরুদ্ধার করতে পারলে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ অনায়াসেই শেষ করা সম্ভব হবে। বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বেহালা বিমানবন্দরটি যদি পুরোপুরি সচল হয়, তবে কলকাতার আকাশপথের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কলকাতা শহরের ভেতর থেকেই বিমান পরিষেবা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে উঠবে। এই সমীক্ষাকে বেহালাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের প্রথম বড় ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। বেহালা পশ্চিম এলাকার এক বিজেপি নেতা বলেন, ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ যখন ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তখনই এই বিষয়টি তিনি এলাকার ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কথা অনুযায়ী কাজ শুরু হল।

