হট টপিক
আজ দুর্গাপুরে শুভেন্দু, সমস্যা সমাধানের আশায় আদিবাসীরা
প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আদিবাসী মহিলাদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন নিয়ে তৃণমূল আমলে কাঁকসার বনকাটির দেউলে আদিবাসীদের 'ডে সেন্টার' তৈরি হয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন শালপাতা দিয়ে তৈরি থালা, বাটি তৈরি করে বিক্রি হবে নিজেদের এলাকাতেই। মহাজনকে আর কম টাকায় সেসব জিনিস বিক্রি করতে হবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পদে বসার পর এই প্রথম দুর্গাপুর আসছেন। স্থানীয়দের আশা জঙ্গলমহল এলাকার এই সমস্যা নিশ্চয় তাঁর নজরে আনা হবে। আশায় বুক বেঁধেছে আদিবাসী সমাজ।
স্থানীয়রা বলেন, এই গড় জঙ্গলে তৎকালীন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দেউল ডে সেন্টারের উদ্বোধন করেন। প্রতিশ্রুতি ছিল, এই কেন্দ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠবে শালপাতার ক্লাস্টার। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন, এই সেন্টার চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, স্বনির্ভর হবেন জঙ্গলমহলের কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফলে ডে সেন্টারটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন নেই। বিপণনের ব্যবস্থাও নেই। ফলে আগের মতোই আদিবাসী মহিলারা জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে হাতেই তৈরি করছেন থালা-বাটি। কখনো তা বহু দূরে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। কখনো কম দামে মহাজনের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। বনকাটি এলাকার বাসিন্দা সুমি টুডু, লক্ষ্মী হেমব্রমেরা বলেন, এখানে যেটা করা হয়েছিল, সেটার কোনো কাজই হল না। আমাদের কষ্ট কমেনি। জঙ্গল থেকে শালপাতা তুলে থালা বাটি তৈরি করি। পরে দুর্গাপুর, ১১ মাইল, পানাগড়, বুদবুদ সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করতে হয়। যদি এখানে বিক্রির ব্যবস্থা হত, তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হত। দূরে গিয়ে বিক্রি করার ফলে লাভের টাকা হাতে থাকে না বললেই চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরে তৎকালীন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও এই সেন্টার খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয় সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে আশা স্থানীয়দের।
বিষয়টি নিয়ে সিপিএম নেতা অলোক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল আমলে এই রকম প্রচুর সেন্টার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া আদিবাসীদের হোস্টেলগুলিও বন্ধের মুখে। এই সরকারের আদিবাসীদের শিক্ষার দিকে নজর দেওয়া দরকার। বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা খুবই ভালো প্রকল্প ছিল। কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতির জন্য প্রকল্পের এই দুরবস্থা হয়েছে। এখন শালপাতার ব্যবহার বেড়েছে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে মানুষের কাছে পৌঁছালে সকলে উপকৃত হবেন। আমাদের সরকার এই জনমুখী প্রকল্পকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।

