হট টপিক
সুসন্তান তৈরির জন্য আমাদের কর্তব্য
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬
গাছকে ভালভাবে বড় করতে গেলে পাঁচটি জিনিস অপরিহার্য-মাটি, আলো, জল, বীজ ও পরিচর্যা। মানুষের ক্ষেত্রে মাটি হলো পরিবেশ। জল হলো মায়ের স্নেহ। সূর্য বা আলো হলো বাবার শাসন। বীজ হলো ভাল বংশ। সবশেষে পরিচর্যা হলো শিক্ষকের তত্ত্বাবধান। বাড়ির পরিবেশ ভাল হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশুকাল থেকেই বাড়িতে নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দিতে হয়। বাড়ির গুরুজনদের মধ্যে অশান্তি এবং সিরিয়াল, ফেসবুক ও হোয়াটসয়্যাপের প্রতি আসক্তি থাকলে সন্তানের থেকে ভাল কিছু আশা করা উচিত নয়।
আলোর অভাবে গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এই আলো সূর্যের থেকে আসে। সূর্যের তাপকে কঠোরতা বা বাবার শাসন বলতে পারি। মহামতি চাণক্য বলেছেন-আদরে অনেক দোষ জন্মে, শাসনে অনেক গুণ জন্মে। অতএব বাল্যাবস্থায় সন্তানকে প্রয়োজনে শাসন করতে হবে। চাণক্যের ভাষায়: "লালয়েৎ পঞ্চম বর্ষাণি দশম বর্ষাণি তাড়য়েৎ, ষোড়শো বর্ষাণি প্রাপ্তং পুত্রে মিত্রাবত্রাচরাচরেৎ।” ষোলো বছর বয়সে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে, সকল বিষয়ের ভাল-মন্দ আলোচনা করে অভিজ্ঞ করে তোলার দায়িত্ব বাবার।
শুধুই রোদের তাপে গাছের শুকিয়ে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য চাই জল। জল হলো মায়ের স্নেহ। মায়ের স্নেহ আছে বলেই সংসারে বেঁচে থাকার এত তাগিদ। সংসারে মা হলো প্রধান স্তম্ভ। আমরা মনীষীদের জীবনী জানলেও ঐ মনীষীদের মায়ের আত্মত্যাগের কথা খুবই কম জানি। মনীষীদের সঙ্গে তাঁদের মায়েদের জীবনীও প্রচার করা উচিত, যা কিনা শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্তস্বরূপ হবে। মায়ের ভূমিকাকে কখনই সংক্ষেপ করা উচিত হবে না। বলতে বাধা নেই, উপরি-উক্ত পাঁচটির মধ্যে মায়ের আত্মত্যাগই কুসন্তানকে সুসন্তানে পরিণত করে। কথায় আছে-"কুসন্তান যদ্যপি হয়, কুমাতা কখনো নয়।” এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন-গাছের গোড়ায় জল জমা থাকলে গাছের মৃত্যু অনিবার্য। টিভি সিরিয়াল, ফেসবুক ও হোয়াটসয়্যাপে নেশাগ্রস্ত মায়েদের প্রশ্রয়ে বহু সন্তান বিপথগামী হয়েছে। মা-বাবার আত্মসমালোচনা ও আত্মত্যাগই বহু মেধাহীন সন্তানকেও জীবনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সবশেষে ভাল ফসল পাওয়ার জন্য বা গাছকে সুন্দরভাবে বাড়ার জন্য চাষী বা মালীর প্রয়োজন। মালী বা চাষীরা আগাছা দূর করে এবং পরিমাণমতো প্রয়োজনীয় সার দিয়ে গাছের পরিচর্যা করে। অতীতে গুরুগৃহ আর বর্তমানে শিক্ষকরাই মালীর ভূমিকা নেয়। ভাল শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ছাত্রের বুদ্ধি এবং প্রতিভার বিকাশ ঘটে। ছাত্র-শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাই সারের ভূমিকা নিয়ে থাকে। ছাত্রের বিশ্লেষণ-ক্ষমতা বৃদ্ধি করাই শিক্ষকের উদ্দেশ্য। শ্রীরামকৃষ্ণের তত্ত্বাবধানে শুধু বিবেকানন্দ নয়, লাটু মহারাজ বা স্বামী অদ্ভুতানন্দ উচ্চকোটির সাধকে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষকের আদর্শনিষ্ঠ আচরণ ছাত্র বা শিষ্যকে শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। একবার শ্রদ্ধাশীল হলে আর পিছনে তাকাতে হয় না। শ্রীমা সারদাদেবীর কথায়-"সাধা গলা কখনো বেসুরো হয় না।"

