দেশ
প্রতিরক্ষায় বিপুল ছাড়পত্র, সেনার আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা আরও শক্তিশালী করার পথে ভারত ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসসি-র (DAC) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই দেশের তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার একাধিক ক্রয়ের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন (AoN) দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশই সরাসরি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছ থেকে কেনা হবে। যার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্র এক ধাক্কায় অনেকটাই মজবুত হবে এবং বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন এই বরাদ্দের মাধ্যমে ভারতীয় স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বিমানবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। স্থলসেনার জন্য কেনা হবে অত্যাধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সাঁজোয়া গাড়ি, যা দুর্গম সীমান্তে সেনাদের যাতায়াত ও রসদ সরবরাহে বিশেষ সাহায্য করবে। এছাড়াও কেনা হচ্ছে আধুনিক ড্রোন, যা সীমান্ত পাহারা ও শত্রুপক্ষের গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজর রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি, সেনার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে কেনা হবে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও মিসাইল সিস্টেম।
নৌসেনার আধুনিকীকরণের জন্যও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। সমুদ্রসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নজরদারি জোরদার করতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য অত্যাধুনিক রাডার এবং বিশেষ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম তৈরির প্রস্তাবেও সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই বিপুল আধুনিকীকরণের ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র হবে।

