সফলতার উপভোগ
জীবনের ব্রত সফল করতে গেলে লক্ষ্যের দিকে একাগ্রতা চাই। অনেক সময় আমরা কিছু মানুষকে কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে "কাজ পাগলা" বলে আখ্যা দিয়ে থাকি। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে যে কাজটি করতে একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি করে চায়, যে কাজ করে একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়, সেই কাজ যখন সে করে তখন তাকে কখনোই পাগলা বলা যায় না কারণ এর মধ্যে বিকার নামক মনোভাবটিও এসে পড়ে। নিজের পেশায় সর্বোচ্চ শিখরে একজন উঠতে পারবে কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সমগ্র সত্তাকে সে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়োগ করলো কিনা, তার উপরে। যে মানুষ তার পেশায় সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে চায়, অন্য কিছু চাইবার তার আর অবকাশ থাকে না। বিভিন্ন পেশায় এমন বহু মানুষ আছেন, যারা যে পরিমাণ বেতন পান, সেই তুলনায় সপ্তাহে কুড়ি ঘন্টা কাজও করার কথা ভাবতে পারেন না। আবার এমন মানুষও আছেন যারা ওই একই বেতন পেয়েও সপ্তাহে ৪০, ৫০ এমন কি ৭০ ঘন্টা কাজও হাসিমুখে করে থাকেন। কারণ নিজের কাজ তাদের মনোগ্রাহী এবং তৃপ্তিদায়ক মনে হয়েছে। কিছু মানুষ আছেন যারা এই কাজকেই ঈশ্বরের পূজা বলে গ্রহণ করেছেন। জীবনে যারা সফল তারা সকলেই নিজের নিজের কাজে আত্মনিবেদিত। এই ধরনের কর্মব্যস্ত, কর্মক্ষম মানুষ সমস্ত রকমের মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম। উল্টোদিকে যে মানুষগুলো কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান নয়, যাদের কাছে ফাঁকি দিয়ে টাকা উপায় করাই জীবনের ব্রত, তারা কিন্তু সামান্য মানসিক চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর এই ধরনের মানুষেরাই প্রতিনিয়ত অপরের সমালোচনা করা, অপরের প্রতি ঈর্ষা-বিদ্বেষ ছড়ানো এবং অপরের ক্ষতি করার জন্য নিজের মনকে অপবিত্র করে তোলে। কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান ও মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষেরা যেকোনো বাধা বিঘ্ন ও অসুবিধাকে বরং পছন্দই করেন। কারণ তাঁরা চান সফলতাকে উপভোগ করতে। এটি হলো পরাবুদ্ধির ফল। একজন গুণী মানুষ বলেছেন, ঈশ্বর এমন কথা দেননি যে আকাশ সর্বদা নীল হবে, সারা জীবনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে। ঈশ্বর কথা দেননি সর্বদা রোদ থাকবে, বৃষ্টি কখনোও পড়বেনা। তবে ঈশ্বর কথা দিয়েছেন, দিনের কাজের জন্য শক্তি থাকবে, পরিশ্রমের পর বিশ্রাম থাকবে, চলার পথে আলো থাকবে।

