সর্বাগ্ৰে নিজেকে শাসন কর
অধিকাংশ মানুষেরই মনের স্বাভাবিক গতি বহির্মুখী। তার সব আশা, আকাঙ্ক্ষা, আকর্ষণ বাহ্যিক বিষয়ে। কিন্তু পার্থিব বস্তু যা কিছুই তার আয়ত্তে আসুক না কেন, এমন কিছুর অভাব তার থেকেই যায়, যার জন্য সে সম্পূর্ণ সুখী হতে পারে না। আলেকজান্ডারের মত দিগ্বিজয়ী সম্রাটও সমস্ত বাহ্যিক বস্তু লাভ করার পরেও তাঁর অন্তর জগতে এমন কিছু অপরাজেয় থেকে গিয়েছিল যা তাঁকে অস্থির করে তুলেছিল। এটাই হলো সাধারণ অভিজ্ঞতা। তাই দাসত্বের জীবন যাপন করে অর্থাৎ ইন্দ্রিয় গুলির দাস হয়ে, স্থূল প্রবৃত্তির আবেগের বশীভূত হয়ে আমরা সুখী হতে পারি না। বাহ্যিক জগতের সমস্ত কিছু পাবার পরেও একদিন সকলের মনেই এই প্রশ্ন উদিত হবে। তার থেকে কারও রেহাই নেই। প্রত্যেককেই এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে জবাব দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সব ধর্মেরই যাত্রা এখান থেকেই শুরু। আমরা এখন যে রকমটি আছি তাতে আমাদের নিজেদের উপর আমাদের কর্তৃত্ব খুব কম। এমনকি যে শরীরটাকে আমরা নিজের বলে দাবি করি, তা আমাদের বাধ্য হতে অস্বীকার করে। আমরাও অবাধ্য স্বভাবের তাড়নায় ইতস্তত ছুটে বেড়াই। কিন্তু যার শরীরের উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব আছে, সে তার অন্তঃস্থ শক্তিসমূহ দ্বারা অশান্ত হয় না। সেই সকল শক্তি তাকে বিক্ষিপ্ত করার পরিবর্তে এনে দেয় মুক্তি ও প্রশান্তি। কারণ সেই শক্তি তার আত্মার অভিব্যক্তির পথে ধ্বংসাত্মক না হয়ে বরং হয় সৃজনাত্মক। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, ইহ জীবনেই যে কাম, ক্রোধ ও লোভের বেগ সংবরণ করতে সমর্থ সেই ব্যক্তিই যথার্থ সুখী। শক্তি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছে কিন্তু যখন তার অপচয় হয় বা তাকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তখনই দেহ- মনকে তা অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। যে অপরকে শাসন করতে চায় তার উচিত আগে নিজেকে শাসন করা। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, সে তার নিজ গৃহের কর্তা।অপরকে বশ মানানোর চেয়ে নিজের ইন্দ্রিয়গুলি জয় করার ক্ষমতা বৃহত্তর শক্তিরই পরিচয়ক।

