প্রকৃত ধনী কে?
ধনী মানুষ দুই রকমের। একদল মানুষ আছেন যাঁরা জাগতিক সম্পদে ধনী ও ঐশ্বর্যবান। বাড়ি, গাড়ি, অগাধ ধনসম্পত্তি প্রভৃতি অফুরন্ত। এই ধরনের মানুষের কাছে গেলে আমরা অনেক সময় তুচ্ছ ও নগণ্য হয়ে যাই। কারণ জাগতিক সম্পদে বলীয়ান মানুষেরা অহঙ্কারী হন, অন্যদের মানুষ বলেই ভাবেন না। সমগোত্রীয় ধনী না হলে অন্যদের খুব একটা সমাদরও করেন না। অর্থাৎ জাগতিক সম্পদ অন্যকে ছোট করে, অবনমিত করে। আর একদল মানুষ আছেন যাঁরা আধ্যাত্মিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ। এই ধরনের মানুষের সান্নিধ্যে গেলে ঠিক বিপরীত অভিজ্ঞতা হয়। তাঁদের কাছে গেলে সাধারণ মানুষও মনে করেন তাঁরা সামান্য নন। তাঁরা যথাযোগ্য সম্মানলাভ করে আত্মবিশ্বাসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠেন, তাঁদের মানসিক উত্তরণ ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়,কেউ দায়িত্বপূর্ণ পদে বা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার আসনে বসলে মানুষ হয়তো তাঁকে সম্মান করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সম্মান দেখায় ভয়ে, ক্ষমতা থেকে চলে গেলে বুঝতে পারেন তাঁর প্রকৃত সম্মান কতটুকু। অথচ যারা প্রশাসন বা রাজনীতি কোন দিক থেকেই ক্ষমতাবান নন, তাঁরা মানুষের সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পান অকৃত্রিম ও আন্তরিক। এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হলো স্বতোৎসারিত। উচ্চকোটীর আধ্যাত্মিক পুরুষ, তিনি সন্ন্যাসী বা গৃহী হতে পারেন তাঁদের সকলের মধ্যেই এই গুণগুলি আছে। তাঁরা অহংকারী বা দাম্ভিক নন। তাঁরা সকলকে সমানভাবে ভালোবাসেন। তাঁরা নিজেরা অতুলনীয় ও অনুপম হয়েও সকলকে সমানচোখে দেখেন। একমাত্র আত্মজ্ঞান হলেই সমদর্শী হওয়া যায়, এবং এই সমদর্শিত্ব থেকেই প্রকৃত বিনয়, নমনীয়তা এবং স্থৈর্য আসে।ব্রহ্মজ্ঞের দৃষ্টিতে যেহেতু সবই আত্মা, সেহেতু তিনি অন্যদের থেকে নিজেকে বড় মনে করেন না। বরং যারাই তাঁর কাছে আসেন, তাঁরা আর নগণ্য থাকেন না, তাঁদের মধ্যেও আত্মশ্রদ্ধা জেগে ওঠে। অন্যকে মান দিলে, আমরা নিজেরাই মহৎ হয়ে উঠি। এটিই আধ্যাত্মিক মহত্ত্বের অনন্য বৈশিষ্ট্য। উন্নত চরিত্রের মানুষ কখনও বাহুবলে বা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে অন্যদের বশীভূত করেন না। তিনি সকলকে ভালোবাসেন ও সকলের মঙ্গল কামনা করেন।

