বিদেশ
বিপর্যয়ে পাশে ভারত: কাঠমান্ডুর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ২৬ আগস্টের ভয়ংকর হড়পা বান এবং হড়পা বানের জেরে হওয়া বন্যায় কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। এই চরম সংকটের মুহূর্তে প্রতিবেশীর বিপদে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। দিল্লির পক্ষ থেকে দ্রুত কাঠমান্ডুতে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জন্য পাঠানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণসামগ্রী। ভারতের এই দ্রুত সহযোগিতার জন্য বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।
একই সঙ্গে এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে কাঠমান্ডু। এদিন নেপালি সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ দুই বন্ধু রাষ্ট্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দুর্যোগের প্রথম দিন থেকেই ভারত ও চিনের বিশেষজ্ঞরা নেপালের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই পরম বন্ধুরাষ্ট্র চিন ও ভারত অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের দল পাঠিয়েছে। প্রথম দিন থেকেই তারা বিধ্বস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা বুঝতে এবং উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে আকাশপথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।” এই বিপর্যয় মোকাবিলায় দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীর ভূমিকা নেপালের সাধারণ মানুষকে নতুন করে বাঁচার আলো দেখাচ্ছে। ভারত ও চিনের পাঠানো এই জরুরি সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ দল কাঠমান্ডুর পাশে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে নেপাল প্রশাসন। তবে নেপাল প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ধ্বংসযজ্ঞে প্রাণ গিয়েছে ১১২৭ জনের। নিখোঁজ ৪৮৫৮ জন। এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৬৫৪১ জনকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই।

