বিদেশ
মারমারা সাগরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, নিখোঁজ ১০
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কের ইস্তানবুল উপকূলের কাছে মারমারা সাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর একটি জাহাজ সমুদ্রের বুকে দ্রুত তলিয়ে যায়। নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন ওই জাহাজে থাকা অন্তত ১০ জন তুর্কি নাবিক। নিখোঁজদের উদ্ধারে মারমারা সাগরে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তুরস্কের কোস্ট গার্ড।
স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়া দুটি জাহাজই তুরস্কের পতাকাবাহী। এর মধ্যে একটি ছিল খালি রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কার ‘আলসু’ এবং অন্যটি ৪,২০০ টন স্টিল বোঝাই ‘তুগবের্ক ইমামোগলু’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার বা পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টে নাগাদ ইস্তানবুলের সিলিভরি জেলা থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে খোলা সমুদ্রে দুটি জাহাজের মধ্যে জোরালো ধাক্কা লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের সূত্রে খবর, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ধাক্কা লাগার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজটি মারমারা সাগরের প্রায় ৯০০ মিটার গভীরে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন-সহ ১০ জন নাবিকের সঙ্গে সমস্ত রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে তাঁদের একটি লাইফবোট ভাসতে দেখা গেলেও সেটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। ফলে নাবিকদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কার ‘আলসু’-র বড় কোনও ক্ষতি হয়নি এবং সেটির সমস্ত কর্মী সুরক্ষিত আছেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তুরস্কের প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে বর্তমানে কোস্ট গার্ডের ২টি হেলিকপ্টার এবং ১২টিরও বেশি উদ্ধারকারী জাহাজ সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। কৃষ্ণ সাগর এবং ভূমধ্যসাগরের সংযোগকারী এই অন্যতম ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক জলপথে এমন আকস্মিক জাহাজ ডুবির ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌ-মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার গোলযোগ নাকি মানুষের কোনও ভুলেই এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

