রাজ্য
মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম বার বেলুড় মঠে শুভেন্দু অধিকারী, নিলেন মহারাজদের আশীর্বাদ
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বার বেলুড় মঠ পরিদর্শনে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু পরে তিনি হাওড়ার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সদর দপ্তরে পৌঁছান। প্রশাসনিক কাজ শুরু করার আগে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা এবং সাধু-সন্ন্যাসীদের প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদ নেওয়াই ছিল তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
বেলুড় মঠে পৌঁছালে মুখ্যমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মঠের সন্ন্যাসীরা। এরপর শুভেন্দু অধিকারী বেলুড় মঠের মূল মন্দিরে যান। সেখানে তিনি শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে প্রণাম জানান। পরে জগৎজননী মা সারদা দেবী এবং বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে নতমস্তকে প্রণাম জানান। মূল মন্দিরগুলির পাশাপাশি তিনি স্বামীজির বেডরুমে যান।
মন্দির দর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বর্তমান অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী গৌতমানন্দজী মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি অধ্যক্ষ মহারাজের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি, মঠের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দজী এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রানন্দজী মহারাজের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন। মঠের পক্ষ থেকে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই এবং ফুলের তোড়া সহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।
বেলুড় মঠ পরিদর্শন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, আজ বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে গিয়ে প্রণাম নিবেদন করলাম। মহারাজদের সান্নিধ্য ও আশীর্বাদ লাভ করে আমি ধন্য। তিনি আরও জানান যে, স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রসার ঘটানো দরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বেলুড় মঠ চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের প্রচুর ভিড় জমেছিল মঠ প্রাঙ্গণে। মহারাজদের আশীর্বাদ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নির্ধারিত জেলা সফর এবং প্রশাসনিক বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বেলুড় মঠে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সংস্কৃতি ও সনাতন ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধার বার্তাই তুলে ধরলেন।

