মানচিত্র প্রস্তুত, জমি মিললেই শুরু হবে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথের কাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগের মানচিত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রস্তাবিত পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেললাইনের পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করল রেল। এখন এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নে একমাত্র বাকি কাজ হলো জমি অধিগ্রহণ। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় জমি রেলের হাতে তুলে দিলেই দ্রুত গতিতে মূল লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, এই রেলপথটি পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া হয়ে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাবে। তিন জেলার কোন এলাকায় ঠিক কতটা জমি প্রয়োজন, তার সুনির্দিষ্ট খতিয়ান ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের শীর্ষ মহলে জানিয়েছেন রেলের কর্তারা। জমি দ্রুত পাওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের আলোচনাও সেরে ফেলেছেন তাঁরা। এই রেলপথ তৈরি হলে দীর্ঘসময় ধরে রেল পরিষেবার বাইরে থাকা তিন জেলার অন্তত আট থেকে নয়টি ব্লক সরাসরি যোগাযোগের মূল স্রোতে জুড়বে। এর ফলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন পুরুলিয়ার মানবাজার মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা, যাঁদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট এক লহমায় দূর হতে চলেছে।
রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত মোট ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন তৈরি করা হবে। এই ট্র্যাকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন ছোটানোর উপযোগী আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে যে পথ ধরে রেললাইন যাবে, সেখানে অত্যাধুনিক ‘ডিজিপিএস’ (ডিফারেন্সিয়াল গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) এবং ড্রোন দিয়ে নিখুঁত সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এই প্রস্তাবিত পথে ১১টি নতুন স্টেশনের ‘কনসেপ্ট প্ল্যান’-ও তৈরি করে ফেলা হয়েছে।
১২৫ কিলোমিটারের এই রুটটির জেলা ভিত্তিক বিন্যাসও চূড়ান্ত। এর মধ্যে পুরুলিয়া জেলাতেই থাকবে সবথেকে বেশি অর্থাৎ ৬৪ কিলোমিটার রেলপথ। এছাড়া ঝাড়গ্রামে ৪৮ কিলোমিটার এবং বাঁকুড়ায় থাকবে ৯ কিলোমিটার রেললাইন। বাকি আড়াই কিলোমিটার পথ যাবে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ওপর দিয়ে। এখন জট কাটানোর বল সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের কোর্টে। নবান্ন সবুজ সংকেত দিলেই জঙ্গলমহলের এই বিস্তীর্ণ অংশে ছুটবে ট্রেন।

