রাজ্য
নবান্নে মেগা বৈঠক: বাংলায় রেলের বিপ্লব
প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে রাজ্যের রেল ও মেট্রো পরিষেবার আমূল পরিবর্তনের জন্য একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী।
এই ঘোষণার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পশ্চিমবঙ্গে বুলেট ট্রেন চালানোর মেগা পরিকল্পনা। রেলমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংকল্প অনুযায়ী এই হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনটি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তরপ্রদেশের লখনউ ও বারাণসী এবং বিহারের পাটনা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরভাগের অন্যতম প্রধান শহর শিলিগুড়িকে সরাসরি সংযুক্ত করবে। এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৬ ঘণ্টা। এটি রাজ্যের পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব গতি আনবে।
বুলেট ট্রেনের পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোর আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা এসেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রো পরিষেবাকে বিশ্বমানের করে তুলতে ৬০টি অত্যন্ত আধুনিক ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন ট্রেন চালু করা হবে। এর ফলে কলকাতার নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক এবং দ্রুত হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলায় রেলের এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি কাজ হবে। পাশাপাশি তৈরি হবে ১০২ টি অমৃত ভারত স্টেশন। তৈরি করা হবে ৫৩৮ টি ফ্লাইওভার এবং আন্ডার পাস। রেলের বিভিন্ন প্রকল্প এর আগে বারবার আটকে গেছে জমি জটে। সেই সমস্যা যাতে না হয় মুখ্যমন্ত্রী এদিন জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন জমি প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করার।
বৈঠক শেষে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজ্যের বিভিন্ন রেল প্রকল্পের কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতো না এবং জমি বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে অনুমতি না দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতো। এর ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বছরের পর বছর আটকে ছিল। তবে রাজ্যে এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকার গঠিত হওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বর্তমান রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় এবার থমকে থাকা সমস্ত রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করা সম্ভব হবে এবং বাংলায় যাতায়াত ব্যবস্থার এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

