রাজ্য
জনসংযোগ বাড়াতে কড়া নবান্ন, সপ্তাহে দু’দিন ‘দুয়ারে’ অফিসাররা
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব মেটাতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে তৃণমূলস্তরে সরকারি আধিকারিকদের জনগণের মুখোমুখি বসতে হবে। মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য অফিসারদের নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার এই বিশেষ জনসংযোগের কাজ চলবে। ওই দু’দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সমস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিজেদের দপ্তরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সময়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি গিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, বড় কর্তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সাধারণ মানুষকে আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা অনুমতি নিতে হবে না। সরাসরি দপ্তরে গেলেই দেখা মিলবে আধিকারিকদের।
প্রশাসন এবং পুলিশ— দুই বিভাগকেই এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে নিচুস্তর, সব জায়গাতেই এই নির্দেশ কড়াভাবে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক (ডিএম), পুর কমিশনার, মহকুমাশাসক (এসডিও), বিডিও এবং পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারদের এই সময়ে অফিসে থাকতে হবে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের ডিজি, এডিজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), ডেপুটি কমিশনার, এসডিপিও এবং থানার ওসি বা ইন্সপেক্টরদেরও এই নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের অনেক সুরাহা হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অনেক সময়ই প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা সরকারি দপ্তরে গিয়েও বড় অফিসারদের দেখা পান না। ফলে সমস্যা মেটার বদলে ঝুলে থাকে। এবার নির্দিষ্ট দিন ও সময় ঠিক করে দেওয়ায় কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই প্রশাসনের স্বচ্ছতাও অনেক বাড়বে। সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে তা দ্রুত সমাধানের পথ বের করতেই নবান্নের এই কড়া দাওয়াই।

