বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

পদ ছাড়বেন না, মাটি কামড়ে লড়াইয়ের ভোকাল টনিক মমতার

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬
পদ ছাড়বেন না, মাটি কামড়ে লড়াইয়ের ভোকাল টনিক মমতার
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ভাটপাড়া, গারুলিয়া, নৈহাটি, হালিশহর এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভায় যখন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর দল ছাড়ছেন বা ইস্তফা দিচ্ছেন, ঠিক সেই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের ডেকে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর এবং পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক করেন দলীয় নেত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কাউন্সিলররা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই কেউ পদ ছাড়বেন না। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যান। আর মাটি কামড়ে পড়ে থেকে লড়াই করুন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার একাধিক পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাটপাড়া থেকে শুরু করে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত একাধিক পুরসভার কাউন্সিলররা দলবদল করছেন, যার ফলে ওই পুরসভাগুলির নিয়ন্ত্রণ শাসকদলের হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই দলবদলের হাওয়া যাতে কোনোভাবেই কলকাতা পুরসভায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সেই কারণেই তড়িঘড়ি এই বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার পুর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, দলের এই কঠিন সময়ে ভয় পেয়ে বা প্রলোভনে পা দিয়ে পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বৈঠকে মমতা বলেছেন, কাউন্সিলাররা জন-পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রতিদিন যথেষ্ট গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তাই কেউ ভয় পাবেন না। নিজের কাজ চালিয়ে যান। মেয়র, মেয়র পারিষদ, কাউন্সিলাররা পদ ছাড়বেন না। তাহলেই বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়বে। ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার মেয়াদ আছে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে যান।
বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো কাউন্সিলরদের মনে করিয়ে দেন, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও যেন নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার কাজে বিন্দুমাত্র খামতি না থাকে। জল নিকাশি, আবর্জনা সাফাই, স্ট্রিট লাইট বা স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো দৈনন্দিন কাজগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের বলেন, সাধারণ মানুষের ঘরের দুয়ারে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে এবং দ্রুত তার সমাধান করতে হবে। মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই যে দলবদলের রাজনীতির একমাত্র পাল্টা জবাব, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
বিরোধীদের রাজনৈতিক চাপ এবং আক্রমণাত্মক কৌশলের মুখে দাঁড়িয়ে কাউন্সিলরদের মনোবল বাড়াতে এদিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভয় পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৃণমূলের নয়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এবং রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলের পুরসভাগুলিতে ধাক্কা খাওয়ার পর কলকাতা পুরসভাকে নিজেদের নিশ্ছিদ্র দুর্গ হিসেবে ধরে রাখতেই এই বিশেষ ‘ভোকাল টনিক’ বা আত্মবিশ্বাস জোগানোর কৌশল নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত পুরসভার যে নোটিস সামনে এসেছে, সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। মমতা বলেন, হঠাৎ করে তো আর বাড়ি ভেঙে দেওয়া যায় না! আইন মোতাবেক তো কাজ করতে হবে।

আরও রাজ্য খবর