নির্বাচন থেকে সরলেন তৃণমূলের জাহাঙ্গীর
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটে গেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন ফলতা। সেখান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল বিদায়ী বিধায়ক জাহাঙ্গীর খানের। কিন্তু আচমকাই তিনি এই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনায় বেশ অবাক হয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর খান নিজেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। তবে কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির বলেন, ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গিরের নামেই বোতাম থাকবে।
উল্লেখ্য, ২৯ মে দ্বিতীয় দফায় ভোট ছিল ফলতায়। সেই ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। ইভিএম-কালি লাগানো, বোতামে টেপ লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এ দিন সাংবাদিক সম্মেলেন জাহাঙ্গির খান জানিয়েছেন, তিনি এসব কিছুই করেননি, কারা করেছে জানেন না। ভোটের লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কি দলকে জানিয়ে নিয়েছেন? সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। সেদিন পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা জানান, ফলতার খবর পেয়ে তাঁর মনে হয়েছে কমিশনের উচিত ওই কেন্দ্রে আবার ভোট করানো। ঘটনাক্রমে কমিশন পুনর্নির্বাচনেরই সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর ৪ মে বাকি ২৯৩ আসনের ফলঘোষণা হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।
ভোটের মাত্র কিছু সময় আগে প্রার্থীর এই আকস্মিক ‘রণে ভঙ্গ’ দেওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত, দল এর দায় নেবে না।

