গেরুয়া অবমাননা বরদাস্ত নয়: চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় দাঁড়িয়ে গেরুয়া পতাকার অসম্মান কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগানও এই রাজ্যে চলবে না। সল্টলেক থেকে শুরু হওয়া ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র শেষে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডের প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই কড়া শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা বা যে শক্তি গেরুয়াকে অপমান করার চেষ্টা করবে, তাঁদের এ রাজ্যের মাটি থেকে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলা হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজ্যের নানা প্রান্তে গেরুয়া রঙ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে বাদানুবাদ তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই যাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন যাদবপুরের দলীয় সভা থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশবিরোধী কোনো শক্তিকে বাংলার বুকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
মঞ্চ থেকে কড়া সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাং এবং কিষাণজিকে যাঁরা রেড স্যালুট জানান, তাঁদের আমি চিনি। যাঁরা গেরুয়াকে ‘তাণ্ডব’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তাঁদের এবার শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব। আপনারা শুধু পাশে থাকুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই মাটি স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমি। এখানে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”
এদিনের এই সভায় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ স্তরের একাধিক নেতা ও কর্মী। যাদবপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝাঁজালো বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে এই ‘গেরুয়া কার্ড’ রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

