বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

জীবনযুদ্ধে বিজয় কেতন ওড়ালেন কলিতা

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
জীবনযুদ্ধে বিজয় কেতন ওড়ালেন কলিতা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝির কাছে খবরটি যখন পৌঁছাল, তখন তিনি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা বার্তাটি শুনেই আবেগে রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর গলা। আনন্দের অতিশয্যে কিছুটা আত্মহারা হয়েই তিনি প্রশ্ন করে ওঠেন, আমি মন্ত্রী হচ্ছি? সত্যি? আমাকে আবার শপথ নিতে হবে? তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছিল, এই বিপুল সম্মান তাঁর কাছে কতটা অপ্রত্যাশিত এবং আনন্দের। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে আজ রাজ্যের মন্ত্রীসভার সদস্য হতে চলার এই যাত্রাপথ ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

কলিতা মাঝি জানান, দল যে তাঁকে এত বড় একটি গুরুদায়িত্ব এবং সম্মান দেবে, তা তিনি কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি বলেন, হয়তো এই কারণেই আমাকে রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে তড়িঘড়ি কলকাতায় পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক দল এবং নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে ক্ষমতার শীর্ষস্তরে পৌঁছালেও তাঁর পা যে মাটির কাছাকাছিই থাকবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই লড়াকু জনপ্রতিনিধি।
নিজের আগামী দিনের কাজের কথা বলতে গিয়ে কলিতা মাঝি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘কথা দিলাম, মন্ত্রী হওয়ার পরেও আমার কাজের ধরন একটুও বদলাবে না। আমি আগের মতোই সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকব। মানুষের যে কোনো সমস্যায় আমি সবার আগে ছুটে যাব।’ নিজের অতীত কষ্টের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার মতো খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট আর কে বেশি বুঝবে বলুন তো? তাই আমজনতার পাশে থাকাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’
নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য তাঁর মনে যে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, সে কথাও এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন হবু মন্ত্রী। আউশগ্রাম এবং গুসকরা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। কলিতা মাঝি সাফ জানিয়েছেন, ‘আমার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে গুসকরায় একটি উন্নত ও ভালো মানের হাসপাতাল তৈরি করা। এই হাসপাতাল আমি করবই।’ এলাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে তিনি বদ্ধপরিকর। একজন সাধারণ মানুষের ঘরের মেয়ে থেকে মন্ত্রী হওয়ার এই রূপকথা এখন আউশগ্রামের মুখে মুখে ঘুরছে। তবে তিনি বলছেন, ‘মানুষের পাশে থাকলে সাফল্য আসবেই। মন্ত্রী হওয়ার পরও মানুষ আমাকে আগের মতোই পাবে। একইরকমভাবে মানুষের কাছে সমস্যার কথা শুনব।’