রাজ্য
নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে অভিনব উদ্যোগ আলিপুরদুয়ারে
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মোবাইল স্ক্রিনে শুধুই নাচ-গান বা বিনোদনের রিল নয়, এবার সমাজ মাধ্যমে নজর কাড়বে বইয়ের রিল। বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ার প্রতি নতুন করে উৎসাহী করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল আলিপুরদুয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়। পাঠ্যপুস্তকের একঘেয়েমি কাটাতে এবং সাহিত্যচর্চাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরাসরি সমাজ মাধ্যমকেই হাতিয়ার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আলিপুরদুয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের এই বিশেষ ও নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসো বই পড়ি’। আধুনিক যুগের ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল অভ্যাসের সঙ্গে বই পড়ার মেলবন্ধন ঘটাতেই এই পরিকল্পনা। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রথম দফায় কলেজের মোট ১০০ জন ছাত্রীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরপর প্রতি ৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে এক একটি ছোট দল।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিটি দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মণীষীদের জীবনের ওপর লেখা মূল্যবান বই। যার মধ্যে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী ও তাঁদের আদর্শ নিয়ে লেখা নানা বই। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দলের সমস্ত সদস্যকে নির্দিষ্ট বইগুলি ভাগ করে পড়ে ফেলতে হবে। শুধু পড়া নয়, সেই বইয়ের মূল ভাবনা নিয়ে তৈরি করতে হবে আকর্ষণীয় ‘রিল’ (Reels)।
ছাত্রীদের তৈরি সেই সমস্ত রিল জমা নেওয়া হবে কলেজে। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষ সেগুলির মধ্য থেকে সেরা রিলগুলি বেছে নিয়ে কলেজের অফিসিয়াল সমাজ মাধ্যমের পাতায় আপলোড করবে। শুধু তাই নয়, যে দলের রিল সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় হবে, সেই ছাত্রীদের বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কৃতও করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে বইয়ের প্রতি পড়ুয়াদের টান ফেরানোর এই ফিউশন ফর্মুলা ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। আলিপুরদুয়ার মহিলা মহাবিদ্যালের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় বলেন, “বর্তমানের সমাজ মাধ্যমের যুগে বই পড়ার আগ্রহ ক্রমশ কমছে। যা বাস্তবেই একটা চিন্তার বিষয়। সে জন্যই সমাজ মাধ্যমকে ব্যবহার করেই বই পড়ার প্রতি সকলকে আকৃষ্ট করতে আমাদের এই চেষ্টা। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ধারাবাহিক ভাবে আমরা এ ধরনের নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

