রাজ্য
মহিলাদের নিখরচায় বাস সফর, খতিয়ে দেখলেন অগ্নিমিত্রা
প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল। মাঝে কেটে গিয়েছে প্রায় দুটো মাস। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর একাধিক বড় বড় ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি প্রতিশ্রুতি ছিল সরকারি বাসে মহিলাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করার সুযোগ দেওয়া। সেই কথা মতোই, পয়লা জুন অর্থাৎ আজ থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি বাসে মহিলারা নিখরচে যাতায়াত করার দারুণ সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্তের ফলে খুশি রাজ্যের নারী সমাজ।
তবে সরকারি নির্দেশিকা কেবল খাতা-কলমেই রয়ে গেল, নাকি বাস্তবেও ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে—তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কোনো মহিলাকে বাসে উঠে আবার নতুন করে টিকিট কাটতে হচ্ছে না তো? কিংবা কন্ডাক্টররা নিয়ম মেনে চলছেন তো? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিজের চোখে খতিয়ে দেখতে আজ সরাসরি ময়দানে নামলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা তিনি নিজেই একটি সরকারি বাসে উঠে পড়েন। গড়িয়াহাট থেকে রুবি মোড় পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের মতোই বাসে চেপে যান তিনি।
বাসে উঠে এক মহিলার পাশের সিটে বসেই অগ্নিমিত্রা জিজ্ঞাসা করেন ‘টিকিট কাটতে হচ্ছে না তো?’ কনডাক্টরের কাছ থেকে নিজেও কেটে নেন ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’। সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াত করতে পেরে মহিলা যাত্রীদের কেমন লাগছে এবং বাসের কর্মীরা ঠিকমতো সহযোগিতা করছেন কিনা, সেই বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর নেন তিনি।
যাত্রীদের পাশাপাশি বাসের কন্ডাক্টর এবং চালকদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকারের এই মানবিক প্রকল্পকে সফল করতে পরিবহণ দপ্তরের কর্মীদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো সাধারণ মহিলা যাত্রী যাতে বাসে উঠে হেনস্থার শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে স্বভাবতই চমকে যান বাসের কর্মীরা। প্রথম দিনেই মন্ত্রীর এভাবে বাসে উঠে পরিষেবা খতিয়ে দেখার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। সরকারের এই কড়া নজরদারি আগামী দিনেও বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

