বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
খেলা

সংকটে আবর্তিত ভারতীয় ফুটবল

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬
সংকটে আবর্তিত ভারতীয় ফুটবল
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়েক বছর আগেও যে উত্তাপ দেখা গিয়েছিল ভারতীয় ফুটবলকে ঘিরে, ২০২৬-এর মে মাসের কাঠফাটা রোদে যেন সেই উত্তেজনায় খানিক ভাটা পড়েছে। এশিয়ান কাপের বিপর্যয় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ব্যর্থতা— একের পর এক ধাক্কায় ভারতীয় ফুটবল এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সুনীল ছেত্রীর অবসরের পর উত্তরসূরি খোঁজার যে চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছিল, তা আজও অমীমাংসিত ।

ভারতীয় ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের সমার্থক ছিলেন সুনীল ছেত্রী। তিনি সরে যাওয়ার পর জাতীয় দলে গোল করার মতো একজন নিখুঁত স্ট্রাইকারের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে । লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে বা লিস্টন কোলাসোদের মতো উইঙ্গাররা আইএসএলে (ISL) নজর কাড়লেও, কঠিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে লক্ষ্যভেদে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। ফেডারেশনের লক্ষ্য এখন অনূর্ধ্ব-১৭ বা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে নতুন গোলমেশিন খুঁজে বের করা, কিন্তু তার ফলাফল পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ভারতকে পরিকাঠামো এবং অর্থ দিলেও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘ মরসুমের পর ফুটবলারদের ক্লান্তি এবং জাতীয় শিবিরের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া ভারতের সাফল্যের পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচ এবং ক্লাবগুলোর মধ্যে এই দড়িটানাটানি ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। এছাড়া আইএসএল-এ বিদেশি স্ট্রাইকারদের দাপটে দেশীয় ফরওয়ার্ডরা প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না, যা জাতীয় দলের আক্রমণভাগকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বিগত এক বছরে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থান ক্রমাগত অবনমিত হয়েছে। ইগর স্টিমাচের বিদায়ের পর নতুন কোচ ম্যানোলো মার্কুয়েজকে ঘিরে আশার আলো দেখা গেলেও, হাতে জাদুর কাঠি নেই তাঁর কাছেও। এশিয়ান কাপে একটিও গোল করতে না পারা এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০০-র বাইরে চলে যাওয়া ভারতীয় ফুটবলের কফিনে শেষ পেরেক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যানোলোর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ফুটবলারদের মানসিকতা পরিবর্তন করা এবং রক্ষণের ফাঁকফোকর মেরামত করা।
এত অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে কেরল, বাংলা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ছোট ছোট একাডেমিগুলো। সন্তোষ ট্রফি বা আই-লিগের (I-League) মতো টুর্নামেন্টগুলোতে এখনও প্রতিভার অভাব নেই। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জুনিয়র দলগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশের কিছু ক্লাবের বিরুদ্ধে ভালো লড়াই দিয়েছে। এআইএফএফ (AIFF) সম্প্রতি 'ভিশন ২০৪৭' প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ বা ২০৩০-এর পর ভারত হয়তো এশিয়ায় নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারবে। কবে ভারত আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফুটবলে জয়গান গাইবে সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা।

আরও খেলার খবর