বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অফবিট

মানুষ ও সাপের এক অদ্ভুত সহাবস্থান: বর্ধমানের পাঁচ গ্রামে পূজিতা দেবী ঝঙ্কেশ্বরী

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬
মানুষ ও সাপের এক অদ্ভুত সহাবস্থান: বর্ধমানের পাঁচ গ্রামে পূজিতা দেবী ঝঙ্কেশ্বরী
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট এবং ভাতার ব্লকের পাঁচটি গ্রামে দেখা যায় এক আশ্চর্য দৃশ্য। সেখানে বিষধর সাপ মানুষের ঘরে, এমনকি শোওয়ার ঘরে ঘুরে বেড়ালেও কেউ ভয় পান না। সাপও মানুষকে কামড়ায় না, আর মানুষও সাপকে মারে না। এই গ্রামগুলির মানুষের বিশ্বাস, এই সাপগুলি আসলে দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর রূপ। যেখানে মানুষ ও সাপ বন্ধুপাশাপাশি অবস্থিত ছ’টি গ্রাম— নিগন, শিকত্তর, মুসারু, পলশনা, বড়পোষলা এবং ছোটপোষলা। এই গ্রামগুলিতে 'ঝঙ্কেশ্বরী' নামে এক বিশেষ প্রজাতির সাপের অবাধ বিচরণ। 
গ্রামবাসীদের গভীর বিশ্বাস, এই সাপ অত্যন্ত শান্ত এবং এরা কখনও মানুষকে কোনো ক্ষতি বা আঘাত করে না। বছরের পর বছর ধরে এখানে সাপ এবং মানুষ সম্পূর্ণ নির্ভয়ে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।
দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর পুজোগ্রামবাসীদের মতে, দেবী ঝঙ্কেশ্বরী সামান্য পুজোতেই সন্তুষ্ট হন। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের কৃষ্ণা-প্রতিপদ তিথিতে এই গ্রামগুলিতে ধুমধাম করে দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর পুজো দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই পুজো দিলেই দেবী সন্তুষ্ট থাকেন এবং সারা বছর গ্রামকে সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন।
তবে এই পুজোর সঙ্গে মনসাপুজোর প্রচলিত রীতি মেলে না একেবারেই। এমনকি নাগপঞ্চমী তিথিতেও পুজো হয় না এখানে।
 গ্রামবাসীদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ কালিয়া নাগকে দমন করে হত্যা করেননি। তাঁকে বিষহীন করে নির্বাসন দিয়েছিলেন এই অঞ্চলে। অবশ্য এই কথার সমর্থনে কোনো পৌরাণিক নথি পাওয়া যায় না। তবে বর্ধমান জেলার জনৈক কালিদাসের লেখা মনসামঙ্গল থেকে জানা যায়, চাঁদ সদাগরপুত্র লখিন্দরকে দংশন করার পর কালনাগিনী নির্বাসিত হয়েছিলেন পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে। আর এই পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলেই রয়েছে মুসারু গ্রাম।

 আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই গ্রামগুলিতে ভক্তি, বিশ্বাস আর প্রকৃতির এই মেলবন্ধন সত্যিই এক অনন্য নজির।

আরও খবর