জীবনযাপন
তপ্ত দহনেও ত্বককে সজীব রাখুন
প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চলতি মরসুমে চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। কাঠফাটা রোদ আর প্যাচপ্যাচে ঘামে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই তীব্র দাবদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের শরীরের বর্ম অর্থাৎ ত্বক। রোদে পোড়া কালচে ছোপ বা ট্যান, ব্রণ, ঘামাচি এবং র্যাশের সমস্যায় জেরবার হতে হয় অল্পবিস্তর সবাইকেই। কিন্তু গ্রীষ্মের এই চোখরাঙানি সামলে কীভাবে ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক পরিচর্যাই হতে পারে এর সমাধান।
গরমে সুস্থ ত্বকের প্রথম শর্ত হলো পরিচ্ছন্নতা। বাইরে থেকে ফিরেই ঠান্ডা জল এবং মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া আবশ্যিক। ঘাম এবং অতিরিক্ত তেল রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যা থেকে ব্রণের উৎপত্তি হয়। তাই দিনে অন্তত দু-তিনবার মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। তবে কেবল বাইরে থেকে নয়, ত্বককে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়, যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ দেখায়। তাই দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করা এবং ডাবের জল বা শসার রস খাওয়ার অভ্যাস ত্বককে সজীব রাখে।
গ্রীষ্মের ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সানস্ক্রিনের ব্যবহার। মেঘলা দিন হোক বা প্রখর রোদ, বাড়ি থেকে বেরোনোর অন্তত ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন মাখা বাধ্যতামূলক। এটি কেবল ট্যান আটকায় না, বরং সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর।
তবে অনেকে মনে করেন, রাসায়নিক প্রসাধনীর চেয়ে গরমকালে ঘরোয়া উপাদানের ওপর ভরসা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
যেমন অ্যালোভেরা জেল রোদে পোড়া জ্বালা কমাতে এটি মহৌষধ। শসা ও গোলাপ জল ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে এবং পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে এই মিশ্রণ টোনার হিসেবে কাজ করে।
চন্দন ও টক দই কালচে ছোপ বা ট্যান দূর করতে চন্দন গুঁড়ো এবং টক দইয়ের প্যাক অত্যন্ত কার্যকর।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বদলে মরসুমি ফল যেমন তরমুজ, আম বা শসা খাদ্যতালিকায় রাখুন। পোশাকের ক্ষেত্রে বেছে নিন ঢিলেঢালা সুতির কাপড়, যা ত্বককে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে।
মনে রাখবেন, ত্বকই আমাদের ব্যক্তিত্বের আয়না। তাই রোদকে ভয় না পেয়ে সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করলে এই তীব্র গরমেও আপনার ত্বক থাকবে ফুরফুরে এবং প্রাণবন্ত।

