ব্যস্ততার মাঝেও যৌনতায় হয়ে উঠুক আপনার জীবন মধুময়
বিশেষ প্রতিবেদন: ব্যস্ততা আর স্ট্রেস এখন সকলের জীবনের স্থায়ী সঙ্গী। কাজ, চাপ, দৌড়ঝাঁপের ভিড়ে অনেক সময়ই শরীরের চাহিদাগুলো পিছিয়ে যায় অগোচরে। খাওয়াদাওয়া, ঘুম— এসব নিয়ে যতটা ভাবনা, যৌন স্বাস্থ্য (Sexual Health) নিয়ে ততটা খোলামেলা আলোচনা এখনও বিরল। অথচ যৌনতা (Physical Intimacy) মানুষের একেবারে স্বাভাবিক জৈব প্রবৃত্তি, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা (Sexual Relationship) বজায় রাখারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই। যদি দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্কে বিরতি থাকে? শুধুই কি শারীরিক ও মানসিক দূরত্ব বাড়ে, নাকি শরীরের ভাল-খারাপের উপরেও তার প্রভাব পড়ে? চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, উত্তরটা বেশ জটিল। এবং অনেকটাই চোখ খুলে দেওয়ার মতো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যৌনতা শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সঙ্গম না হলে যোনি অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে, যার ফলে উত্তেজনার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কমে যায়। এর ফলেই দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, অস্বস্তি, এমনকি দীর্ঘ বিরতির পর মিলনে ব্যথাও হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক না থাকলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। অনেকেই ভোগেন তথাকথিত ‘পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি’-তে, যা আবার মানসিকভাবে তো বটেই, শারীরিক সক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলে।
হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ে। যৌনতার সময় শরীরে নিঃসৃত হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। যেমন এন্ডোরফিন, অক্সিটোসিন। এগুলো শুধু আনন্দের অনুভূতিই দেয় না, ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত যৌনতা জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলে অনেকের ক্ষেত্রেই ঋতুস্রাবের সময় অস্বস্তি বা ক্র্যাম্পের সমস্যা বাড়তে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
শারীরিক মিলন শুধু সম্পর্কের বন্ধন নয়, শরীরের জন্যও এক ধরনের স্বাভাবিক ব্যায়াম। এটি ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এছাড়া যৌনতার সময় শরীরে ‘ইমিউনোগ্লোবিউলিন এ’ নামে একটি অ্যান্টিবডির মাত্রা বাড়ে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘদিন যৌন সম্পর্ক থেকে দূরে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
যৌনতার পর শরীরে যে হরমোন নিঃসৃত হয়, তা ঘুমের গুণমানও উন্নত করে। তাই দীর্ঘ বিরতির পর অনেকেই ঘুমের ছন্দে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।
শুধু শরীর নয়, মনও এর বাইরে নয়। সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা কমে গেলে অনেক সময় মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। অজান্তেই জমতে থাকে অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা।
যৌনতা নিয়ে কথা বলা এখনও অনেকের কাছে অস্বস্তিকর। কিন্তু বাস্তব বলছে, এটি শরীর ও মনের সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা, চাহিদাও আলাদা। দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্কে না থাকলেই যে বড় বিপদ হবে, এমন সরল সমীকরণ নেই। কিন্তু নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো বোঝা, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া— এটাই সচেয়ে জরুরি।

