হট টপিক
সুরুচি সংঘের পুজোয় এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইতিকথা
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে এবার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দেশভাগের সময় বঙ্গরক্ষায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার আঙিনাতেও জায়গা করে নিতে চলেছেন ভারতীয় জন সংঘের এই প্রতিষ্ঠাতা। কলকাতার অন্যতম হাইপ্রোফাইল পুজো, যা গত বছর পর্যন্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো বলেই আমজনতার কাছে পরিচিত ছিল, সেই নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের মণ্ডপেই এবার ফুটে উঠবে ‘ভারত কেশরীর’ জীবন ও ইতিহাস।
পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের থিমভাবনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উৎস’। এই থিমের আবহেই দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন কীভাবে উত্তাল দেশভাগের সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি গঠনে এবং বাঙালির নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসই নয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডের নানা দিক শিল্পকলার মাধ্যমে মণ্ডপে তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুরুচি সংঘের মতো প্রথম সারির পুজোয় এই ধরনের বিষয় নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পর সংস্কৃতির মঞ্চকেও যে নতুন শাসক দল নিজেদের আদর্শ ও ইতিহাসের নায়কদের তুলে ধরতে ব্যবহার করছে, এই পুজো তারই এক বড় প্রমাণ।
পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, দুর্গাপূজা শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস ও চেতনাকে ফিরে দেখার এক মোক্ষম মাধ্যম। ‘উৎস’ থিমের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাংলার আসল ইতিহাস এবং নেপথ্যের নায়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। ঢাকের আওয়াজ আর আলোর রোশনাইয়ের মাঝেই সুরুচি সংঘের মণ্ডপে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছেন তিলোত্তমার পুজোপ্রেমীরা।

