বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

মানকর হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মানকর হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মানকর হাসপাতালে তান্ডব, স্বাস্থ্যকর্মীদের গায়ে হাত তোলা সহ একাধিক অভিযোগে বুদবুদ থানার পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার অভিযুক্তদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি কোনার বলেন, আমরা চাই চব্বিশ ঘন্টা কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হোক। 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। এলাকার বাসিন্দা বুধন বাউরী (৫০) বুকে ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে নিয়ে আসা হয় মানকর হাসপাতালে। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ফের অসুস্থতা অনুভব করেন বুধন। মাঝ রাস্তা থেকেই ফের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু রোগীর পরিবার অভিযোগ করেছিলেন দীর্ঘ সময় পর ডাক্তারবাবু আসেন। তারপর বুধনকে মৃত ঘোষণা করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রোগীর পরিবার। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর শুরু হয়। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙা, ওষুধপত্র, রোগীদের বিছানা তছনছ করা হয়। হাসপাতালে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। 
এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগীকে দ্বিতীয় বার হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। পরিজনেরা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার বিক্ষোভরত অবস্থায় নার্স মৌমিতা নাগ বলেছিলেন, রাতবিরেতে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখানে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, এই ঘটনা প্রথম নয়। বিভিন্ন সময়ে গভীর রাতে মাতালরা মদ্যপ অবস্থায় এসে নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। হুমকি দেয়। হাসপাতালে রাতে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও, তা পর্যাপ্ত নয়।  
এরপরেই পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে বুদবুদ থানার পুলিশ। সোমবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ভরত আঁকুড়ে, শঙ্কর বাউরি, সুমন বাউরি, দীপক বাউরি, অমিত বাউরি এবং রাহুল বাগদি। ধৃতরা সকলেই মানকরের বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং সরকারি কাজে বাধা দান সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, স্বাস্থ্যকর্মীদের গায়ে হাত তোলা কোনভাবেই সমর্থ যোগ্য নয়। কিন্তু মানকর হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এক্স-রে মেশিন খারাপ। অথচ তা সারানোর কোনো উদ্যোগ নেই। বাধ্য হয়ে মানুষকে বাইরে থেকে বেশি টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। চিকিৎসা করাতে এলেই রেফার করে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া রাতের দিকে চিকিৎসার জন্য এলে গেট খুলতেই কখনো অনেক সময় লেগে যায়। চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা সন্তুষ্ট নয়।  
তবে ভাঙচুর প্রসঙ্গে বিএমওএইচ অর্ঘ্য বিশ্বাস বলেন, মানকর হাসপাতালে নিরাপত্তার অভাব দীর্ঘদিনের। এই ঘটনা কাম্য নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি।