বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

রোগীর মৃত্যুতে উত্তপ্ত মানকর হাসপাতাল, নিরাপত্তাহীনতায় কর্মীরা

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রোগীর মৃত্যুতে উত্তপ্ত মানকর হাসপাতাল, নিরাপত্তাহীনতায় কর্মীরা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মানকর গ্রামীণ হাসপাতাল। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীদের নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল মৃতের পরিজনদের বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতের এই ঘটনার পর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। রবিবার সকাল থেকেই নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে হাসপাতালের সামনেই বিক্ষোভে বসেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে মানকর গ্রামের বাসিন্দা বুধন বাউরি (৫০) হাসপাতালে ভর্তি হন। ইনজেকশন ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে ছেড়ে দেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি পৌঁছানোর আগে রাস্তাতেই বুধনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তড়িঘড়ি তাঁকে ফের  হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর শনিবার রাতে ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতাল ভাঙচুর শুরু করে। অভিযোগ রোগীদের জন্য বিছানা, ওষুধ সব নষ্ট করা হয়েছে। তার জেরে হাসপাতালে ইন্ডোর পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। ওই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কর্তব্যরত নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি ঘরের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। অভিযোগ বিক্ষুব্ধরা সেই ঘরের দরজাতেও লাথি মারে। এমনকি স্বাস্থ্য কর্মীদের গায়েও হাত তোলে। ঘটনার আকস্মিকতায় হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওয়ার্ডে ভর্তি থাকার রোগীদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিন ভর্তি থাকার রোগী বৃষ্টি বাউরী বলেন, আতঙ্কের মধ্যে সারারাত পার করেছি। ওরা কি করবে আমরা বুঝতেও পারছিলাম না। বুদবুদ থানার পুলিশ ঘটনার কথা জানার পরে দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে। 
যদিও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মানকর হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। চিকিৎসা করাতে এলেই রেফার করে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাই 'রেফার হাসপাতাল' বলেও এলাকায় খ্যাতি লাভ করেছে। 
 তবে রাতের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেন চিকিৎসক, নার্স থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরা। বিক্ষোভরত এক নার্স বলেন, প্রত্যেকদিন আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এই ঘটনার পর আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে।
হাসপাতালে সুপার সপ্তর্ষিক কোনার বলেন, উপর পেটের ব্যাথা নিয়ে রোগী আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। রোগী সুস্থ বোধ করায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে যাওয়ার কিছুটা পরেই গুরুতর অসুস্থতা বোধ করেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তারপরই ভাঙচুর করা হয়। রাতের দিকে নার্সিং স্টাফসহ কর্তব্যরতদের নিরাপত্তায় যাতে সুনিশ্চিত করা যায় সেদিকেই আমাদের লক্ষ্য থাকবে। 
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কাঁকসা) মহম্মদ আলি রাজা জানান, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”